ঈদের ছুটির শেষবেলায় শ্রীমঙ্গলে পর্যটকের ঢল

পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটির শেষ দিনে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল যেন পরিণত হয় পর্যটকদের মিলনমেলায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপিপাসু মানুষের পদচারণায় গতকাল রবিবার সরগরম হয়ে ওঠে চায়ের রাজধানী খ্যাত এই পর্যটননগরী। চা-বাগান, পাহাড়, বনাঞ্চল ও দর্শনীয় স্থানজুড়ে ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে দেখা যায় পর্যটকদের।

ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই শ্রীমঙ্গল পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। এবারের ছুটির শুরুতে নানা কারণে পর্যটকের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও শেষ দিকে এসে বদলে যায় সেই চিত্র। বিশেষ করে ছুটির শেষ দিন রবিবার শহরের বিভিন্ন পর্যটন স্পট, চা-বাগানের সড়ক ও আশপাশের এলাকাগুলোতে দেখা যায় মানুষের ব্যাপক সমাগম।

সরজমিন ঘুরে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন চা-বাগান, বধ্যভূমি-৭১, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন, হরিণছড়া, বিটিআরআই, রাবার বাগান, লাল পাহাড়, সাত রঙের চা, চম্পা লেক, খাসিয়া পল্লি ও মণিপুরী পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে ছিল পর্যটকদের উপস্থিতি। পাশাপাশি কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক, হামহাম জলপ্রপাত ও বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান স্মৃতি সৌধেও ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক সুমন দেবনাথ বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে শ্রীমঙ্গল এসেছি। চা-বাগান আর পাহাড়ের সৌন্দর্য সত্যিই মুগ্ধ করেছে। শহরের ব্যস্ততা থেকে দূরে এমন পরিবেশে কিছু সময় কাটানো অনেক প্রশান্তির। মাগুরা থেকে আসা তাসনিম জাহান বলেন, ‘প্রথমবার শ্রীমঙ্গলে এলাম। এখানে এসে বুঝতে পারলাম জায়গাটা নিয়ে এত প্রশংসা কেন। চারদিকে সবুজ আর শান্ত পরিবেশ মন ভালো করে দেয়।’ নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পপী বিশ্বাস বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কয়েকটা দিন সুন্দর কাটছে। শিশুদের জন্য যেমন আনন্দের জায়গা আছে, তেমনি বড়দের জন্যও প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। তবে পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হওয়া উচিত।’

শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এসকে দাশ সুমন বলেন, ছুটির শুরুতে পর্যটক কম থাকলেও শেষ দুই দিনে পর্যটকদের আগমন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে স্থানীয় পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজেও ছিল ভালো বুকিং।

ট্যুরিস্ট পুলিশ শ্রীমঙ্গল জোনের পরিদর্শক প্রজিত কুমার দাশ বলেন, ‘ঈদের শেষ দিনে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ঈদের ছুটির শেষ মুহূর্তে পর্যটকদের সরব উপস্থিতিতে আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে শ্রীমঙ্গলের পর্যটন অঙ্গন। সবুজ চা-বাগান আর প্রকৃতির মায়ায় ঘেরা এই জনপদ যেন নতুন করে জানান দিল দেশের পর্যটন মানচিত্রে শ্রীমঙ্গলের আবেদন এখনো অমলিন।