‘মাদক যেখানে, প্রতিরোধ সেখানে’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে এলাকার যুব সমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে মুক্ত রাখার প্রত্যয়ে এবং মাদক-সন্ত্রাস নির্মূল, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধ দমনে গণসচেতনতা তৈরির মহান লক্ষ্যে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক বিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি ও মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বৈলপুর গ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় হাজী মনির উদ্দিন আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় হলরুমে এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন কনকাপৈত ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হাছান মজুমদার। সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চ্যানেল টোয়েন্টি ফোর এর সিনিয়র সাংবাদিক এম. মোশাররফ হোসাইন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক মো. আহসান হাবীব বেপারীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনকাপৈত ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মো. আবুল কাশেম, ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কাজী মহিন উদ্দীন নয়ন, ৯ নাম্বার ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. বেলায়েত হোসেন।
বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সমাজসেবক কাজী মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. রেজাউল করিম মোল্লা, বিশিষ্ট ব্যাংকার কাজী মো. মামুনুর রশিদ, সমাজসেবক ডা. মো. তাজুল ইসলাম, সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, প্রবাসী মো. ইমাম হোসেন পাটোয়ারী, কাজী মোহাম্মদ অপু, আয়কর আইনজীবী মো. আবদুর রাজ্জাক, প্রবাসী মো. আব্দুল হালিম পাটোয়ারী, সমাজসেবক মো. সাঈদুর রহমান মোল্লা প্রমুখ।
সমাবেশে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গের সর্বসম্মতিক্রমে মো. আহসান হাবীব বেপারীকে আহ্বায়ক ও কাজী মহিন উদ্দীন নয়নকে সদস্য সচিব করে উভয় গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে মাদক বিরোধী কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন- বিশিষ্ট সমাজসেবক কাজী মো. ইলিয়াছ, সিনিয়র সাংবাদিক এম. মোশাররফ হোসাইন, সমাজসেবক কাজী মো. বশির আহমেদ, মো. রেজাউল করিম মোল্লা, কাজী মামুনুর রশিদ, মো. বেলায়েত হোসেন, ডা. মো. তাজুল ইসলাম, মো. আবুল কাশেম, কাজী মো. হারুনুর রশিদ, কাজী আব্দুল মালেক, সাংবাদিক মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, কাজী মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন, মো. আলমগীর হোসেন, মো. মাকসুদুর রহমান, কাজী মো. অপু, মাওলানা মো. বেলাল হোসেন, কাজী আব্দুল হান্নান নয়ন, মো. সাদ্দাম হোসেন মোল্লা, কাজী সোহাগ, মো. সাদেক হোসাইন, মো. রুবেল, আসাদুজ্জামান তন্ময় প্রমুখ।
এ সময় এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের তালিকা প্রণয়ন করে ব্যক্তি-পরিবার পর্যায়ে ও সামাজিকভাবে তাদেরকে মাদকের ভয়বহতা সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি চিহিৃত মাদক কারবারিদের এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখা, সংশোধন না হলে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা, মাদক কারবারিদের ছবি সম্বলিত পরিচিতিমূলক ব্যানার ছাপিয়ে বাজার সহ গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে তা টাঙিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে তাদেরকে আটক করে আইনের হাতে সোপর্দ করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যারা মাদক ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী তাদেরকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়া, তাদেরকে বিদেশ গমনে আর্থিক সহায়তা করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা, মাদক-সন্ত্রাস নির্মূলে, ইভটিজিং ও কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণসচেতনতা তৈরিতে মসজিদ ও পাড়া ভিত্তিক সভা-সেমিনার করা এবং লিফলেট বিতরণ করা সহ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. আনিসুর রহমান, আবুল কালাম বেপারী, কাজী মো. সাইফুল্লাহ, মো. সাদ্দাম হোসেন মোল্লা, কাজী মো. শহিদুল্লাহ, মো. শাহআলম, মো. আমান উল্লাহ, মহি উদ্দিন মুন্সী, কাজী মো. নুরুল আলম, মো. রাকিবুল হাসান মোল্লা, মো. জাহিদুল ইসলাম, কাজী সোহাগ, কাজী আরব আলী, কাজী মাসুদ, কাজী আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল মোতালেব, সাদেক হোসাইন, মো. রুবেল মোল্লা, কাজী শাখাওয়াত হোসেন শরীফ, মো. নাজমুল ইসলাম, মিসবাহ মজুমদার, মো. হালিম, মো. মামুন একরাম, মো. আজাদ, মো. আমজাদ হোসাইন, মো. আব্দুল কাদের, সাহাব উদ্দিন, মো. বাবলু, আসাদুজ্জামান মিয়াজী তন্ময়, আদনান, রাকিব, ফরহাদ, সুমন, মো. তানভীর আহমেদ মাহিম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও তরুন ও যুবসমাজের নেতৃত্বস্থানীয় লোকজন।