সুপ্রিম কোর্টের বিজয় একাত্তর ভবনের টয়লেটে কর্মচারীর মরদেহ

সুপ্রিম কোর্টের ‘বিজয়- ৭১’ ভবনের ৮তলার শৌচাগার পাশ থেকে হাইকোর্ট বিভাগের কর্মচারী কামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১২ তলাবিশিষ্ট এই ভবনের অষ্টম তলার শৌচাগার-সংলগ্ন গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় কামালের মরদেহ ছিল।

প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালনরত আপিল বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হক ও সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির কর্মকর্তারা বেলা আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বলে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারপতির জমাদার হিসেবে কামাল উদ্দিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দায়িত্বশীল একটি সূত্রের তথ্যমতে, হাইকোর্ট বিভাগের কোর্ট কিপার হিসাবে তাঁর বদলি হওয়ার কথা ছিল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ‘বিজয়- ৭১’ ভবনের কোর্ট বিজয় ২৪-এর শৌচাগারের বাইরের পাশের জানালা ঝুলছিল কালামের লাশ। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মরদেহ জানালা থেকে নামিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইমসিন ইউনিট তার মরদেহ নামিয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় মৃত কামালের স্ত্রী মনি ও বড় মেয়ে কানিজ ফাতেমা প্রীতি উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে মনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত রবিবার রাতে গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় আসছি। সকালে নাস্তা করে অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। এরপর দুপুরের দিকে খবর পায় আমার স্বামী লাশ ঝুলছে। আদাবর থেকে বড় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে কোর্ট ভবনে এসে এই অবস্থায় পায়। তিনি বলেন, কোর্টে ১৮ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। এছাড়া শ্বাশুড়ি ও ছোট মেয়েও অসুস্থ রয়েছে। এসব কারণে হয়তো আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, বিজয়-৭১ ভবনের অষ্টম তলার শেষ প্রান্ত থেকে একজন জমাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথমে একজন দেখে অবহিত করেন। তারপর সংশ্লিষ্ট থানা- পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর দেওয়ার পর পুলিশ ও সিআইডি ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইন অনুসারে পুলিশ যা করার, তাই করবে। সম্ভবত তারা এখন একটি ইউডি কেস করতে যাচ্ছে। তারপর তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল আলম জানান, মৃত কামাল উদ্দিনের বাড়ি নেত্রকোনা সদরে বড় কাটুরি গ্রামে। তার বাবার নাম কবির উদ্দিন। হাইকোর্ট বিভাগের জমাদার পদে চাকরি করেন তিনি। তার স্ত্রী ও স্বজনদের মাধ্যমে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে হতাশাগ্রস্থ ছিলেন। এর কারণে সোমবার বেলা পৌনে ১ থেকে সোয়া ২টার মধ্যে যেকোনো সময় সুপ্রিম কোর্টের বিজয় একাত্তর ভবনের অষ্টম তলার গ্রিলের সাথে রশি পেচিয়ে গলায় ফাঁস দেন তিনি।

খবর পেয়ে সেখান থেকে তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তার শরীরে কোন জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।