বিচারক জীবন থেকে অবসরে গেলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম। ৬৭ বৎসর বয়স পূর্ণ হওয়ায় সংবিধান অনুসারে আজ মঙ্গলবার অবসরে যান তিনি।
কর্মদিবসের শেষ দিনে বেলা পৌনে ১২টায় আপিল বিভাগের ১ নম্বর এজলাস কক্ষে (প্রধান বিচারপতির এজলাস) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন। এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, আপিল বিভাগের অপর বিচারপতিগণ ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৫৯ সালের ১৫ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন আশফাকুল ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা ও দায়রা আদালতে এবং ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম। দুই বছর পর ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট একই বিভাগে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।
বিদায়ী সংবর্ধনার জবাবে বিচারপতি মো.আশফাকুল ইসলাম বলেন, বিচার বিভাগ শুধু বিচারক ও আইনজীবীদের নয়, বিচার বিভাগ আমাদের সবার। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী আমরা সবাই এই প্রতিষ্ঠানের অংশ। আমরা যদি সবাই বিচার বিভাগকে নিজের প্রতিষ্ঠান বলে মনে করি, তাহলে এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা স্বাধীনতা এবং জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের শক্তি একা কোনো বিচারকের শক্তি নয়, এক কোনো আইনজীবীরও নয়, এটি আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের ফল। তাই ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে-এই প্রত্যাশা করি।
বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, একজন আইনজ্ঞের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সততা। এরপর তার চরিত্র। আর তারপর তার অধ্যায়ন। আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নতুন নতুন প্রশ্ন সামনে আসছে।
আইনজ্ঞ হতে গেলে শেখার কোনো শেষ নেই। তাই নিয়মিত পড়তে হবে। সংবিধান পড়তে হবে। আইন পড়তে হবে। দেশি-বিদেশি রায় পড়তে হবে। বিচারতত্ত্ব জানতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বিচার বিভাগের সামনে আগামী দিনে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে। মামলার জট কমাতে হবে। বিচারকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করতে হবে। মানুষের প্রত্যাশাও অনেক বেড়েছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হলে বিচার বিভাগকে আরও দক্ষ, আরও আধুনিক এবং আরও সেবামুখী হতে হবে।
বিচার শুধু প্রতিষ্ঠিত হলেই যথেষ্ট নয়; মানুষকেও তা দেখতে হবে এবং বিশ্বাস করতে হবে যে বিচার হয়েছে। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা। সেই আস্থা রক্ষা করাই আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব।