পদ্মা নদীর অব্যাহত ভাঙনের ঝুঁকি থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী এলাকা রক্ষায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে পাটুরিয়া ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মধ্যবর্তী ধুতুরাবাড়ি এলাকায় এ কার্যক্রম শুরু হয়। কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিষা রানী কর্মকার।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ঘাট-সংশ্লিষ্টরা জানায়, গত বছরের আগস্টে পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া ঘাটের কয়েকটি স্থানে ব্যাপক ভাঙন দেখা দেয়। এতে ২২টি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পাশাপাশি লঞ্চ ও ফেরিঘাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। প্রায় এক বছর ধরে এ পরিস্থিতি চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাত্রী ওঠানামা চালু রাখে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না পাওয়ায় ঘাট মেরামতের কাজও বিলম্বিত হয়।
চলতি বছর পদ্মা ও যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় বিআইডব্লিউটিএ ঈদুল আজহার আগে পাটুরিয়া লঞ্চঘাট উত্তর দিকে সরিয়ে কড়ইতলা এলাকায় স্থায়ীভাবে পল্টুন স্থাপন করেছে বলে জানান।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা সেক্টরের উপ সহকারী প্রকৌশলী মুশা মিয়া জানান, ভাঙন অব্যাহত থাকায় বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ঘাট এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে তিনটি ঘাট এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। বর্তমানে ঘাটের মধ্যবর্তী ধুতুরাবাড়ি এলাকার ভাঙনকবলিত অংশ এবং লঞ্চঘাট এলাকায় আরও পাঁচ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাজেট অনুমোদন হলে পুরো ঘাট এলাকায় স্থায়ীভাবে ভাঙনরোধী কাজ শুরু করা হবে।
শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, বিআইডব্লিউটিএ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বয়ে ভাঙন রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।