বাবা কানাডায় এবং মা বাড্ডা থানার এলাকায় আলাদা বাসায় বসবাস করতেন। দুই ভাই কলাবাগানের ভাড়া বাসায় গত পাঁচ বছর ধরে একাই থাকতেন। মাঝে মধ্যে মা এসে তাদের দেখে যেতেন।
পরীক্ষার সময় নানি এসে থাকতেন। বাবা প্রবাস থেকে বাসাভাড়া ও অন্যান্য খরচের টাকা পাঠাতেন। কিন্তু বাবা-মা কেউই সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারতেন না।
তবে দুই ভাইই বাবা-মা দুজনকে প্রচণ্ড ভালোবাসত। ঘটনার দিন বাসায় শরীরচর্চা করতে করতে এক ভাই আরেক ভাইকে বলতে থাকে, বাবা-মা তাকে বেশি ভালোবাসেন।
বড় ভাই সাদমান ওয়াসিফ সুপান্ত (১৭) মজা করে ছোট ভাই রাফিত আরিয়ান শুদ্ধকে (১৬) বলেন, “বাবা-মা আমাকে বেশি ভালোবাসে।” কিন্তু ছোট ভাই কোনোভাবেই তা মানতে রাজি ছিল না। উত্তেজিত হয়ে সে বলে, “না, আমাকে বেশি ভালোবাসে।” এভাবেই দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলতে থাকে।
একপর্যায়ে শরীরচর্চার জন্য ব্যবহৃত একটি ডাম্বেল দিয়ে বড় ভাই সাদমান ওয়াসিফ সুপান্তের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। রক্তাক্ত অবস্থায় সুপান্ত অচেতন হয়ে পড়লে কী করবে বুঝতে না পেরে ছোট ভাই আরিয়ান শুদ্ধ তার মা সানজিদা মৌসুমীকে ফোন করে জানায়, সুপান্ত মেঝেতে পড়ে আছে।
সুপান্ত ও শুদ্ধের মা সানজিদা মৌসুমী ৩২তম বিসিএসের একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। ছেলের ফোন পেয়ে তিনি কলাবাগানের বাসা থেকে সুপান্তকে উদ্ধার করে প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফজলে আশিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিহত সাদমান ওয়াসিফ সুপান্ত বর্তমানে কলাবাগান থানার কাঠালবাগান ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকার সি-২৭২ নম্বর বাসায় থাকতেন।
তিনি আরও জানান, সুপান্তের গ্রামের বাড়ি বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলায়। তিনি সিরাজুল সালেকিনের ছেলে। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ছোট ভাইয়ের হাতে থাকা জিমের ডাম্বেল দিয়ে বড় ভাইয়ের মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুপান্ত এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন।
এসআই শামসুল হক সুমন দেশ রূপান্তরকে বলেন, খবর পেয়ে রাত ১টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় সোমবার নিহতের চাচা রিয়াদুস সালেহিন সাদী বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর ছোট ভাই রাফিত আরিয়ান শুদ্ধকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।