শুভেন্দুর সরকারে আরও ৩৫ মন্ত্রী

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পরে তার মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করেছেন। রাজ্যপালের বাসভবন ‘লোকভবনে’ গতকাল সোমবার ৩৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। রাজ্যপাল আর এন রবি বিধায়কদের শপথবাক্য পাঠ করান। নতুনদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১৩ জন, স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী তিনজন এবং প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন ১৯ জন।

এর আগে গত ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপিশাসিত অন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু। তার পাশাপাশি সেদিন মন্ত্রী হিসেবে বিজেপি বিধায়ক দিলীপ ঘোষ, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু ও অগ্নিমিত্রা পালও শপথ নিয়েছিলেন। এখন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভার সদস্য হলো ৪১ জন।

গতকাল যারা শপথ নিয়েছেন, তাদের মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত, শঙ্কর ঘোষ, অর্জুন সিং, তাপস রায়, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। এ ছাড়া দুধকুমার মণ্ডল, দীপক বর্মণ, মনোজ ওঁরাও এবং গৌরীশঙ্কর ঘোষও পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

স্বতন্ত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মাহাতো, ইন্দ্রনীল খাঁ এবং মালতী রাভা রায়। মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন জোয়েল মুর্মু, অশোক দিন্দা, আনন্দময় বর্মণ, কৌশিক চৌধুরী, গার্গী দাস ঘোষ, ভাস্কর ভট্টাচার্য, দিবাকর ঘরামি ও সুমনা সরকার। এ ছাড়া বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক, পূর্ণিমা চক্রবর্তী এবং উমেশ রাইও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

তবে কে কোন দপ্তরের দায়িত্বে থাকছেন সে বিষয়ে এখনো জানানো হয়নি। সূত্র জানিয়েছে, পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হওয়ার ফলে আগে বরাদ্দ দেওয়া দপ্তর কিছুটা রদবদল হতে পারে।

সম্প্রতি শেষ হওয়া নির্বাচনে ২৯৪ সদস্যের বিধানসভায় ২০৮টি আসনে জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে হিন্দুত্ববাদী বিজেপি। এর মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে এবং পূর্ব ভারতে এটিই বিজেপির সবচেয়ে বড় নির্বাচনী সাফল্য।

তৃণমূলের দুই বিধায়ক সাসপেন্ড : তৃণমূল কংগ্রেস দল তাদের নবনির্বাচিত দুজন বিধায়ককে সাসপেন্ড করেছে। নির্বাচনের পরে বিধানসভায় কে বিরোধী দলনেতা হবেন, তা ঠিক করতে দলের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়ের বাড়িতে বিধায়কদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে যে প্রস্তাবনা গ্রহণ করা হয়, তাতে বিধায়কদের সইতে অসংগতি আছে, এই অভিযোগ তুলেছিলেন সাসপেন্ড হওয়া দুই বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা। এ কথা গতকাল প্রকাশ্যে জানিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারপরেই তৃণমূল কংগ্রেস ওই দুই বিধায়ককে সাসপেন্ড করে দেয়।

জানা গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়কদের স্বাক্ষরে অসংগতি আছে, এই অভিযোগের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের সিআইডি। অভিযোগ রয়েছে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা, উপ দলনেতা এবং মুখ্য সচেতকের নাম বেছে নেওয়ার প্রস্তাবে বিধায়কদের যে স্বাক্ষর রয়েছে তার মধ্যে বেশ কয়েকটা ইংরেজির ব্লক লেটারে। আরও অভিযোগ, বিধায়কদের অনেকে জানিয়েছেন, তারা না কি সই-ই করেননি। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের হয়। পরে মামলা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। ওই তদন্তে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীকেও গতকাল ডেকে পাঠিয়েছিল সিআইডি। তবে ‘শারীরিক অসুস্থতার’ কারণ দেখিয়ে অবশ্য এদিন অভিষেক সিআইডির দপ্তরে যাননি।

সই সংক্রান্ত অসংগতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ ওঠে এর নেপথ্যে বিজেপি রয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী গতকাল জানান, এই অভিযোগ বিজেপি তোলেনি, তুলেছেন ‘তৃণমূলের দুজন বিধায়ক ঋতব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা। স্পিকারের কাছে তারা লিখিত অভিযোগে জানান ৬ মে কোনো রেজুলেশনই হয়নি। ওই রেজুলেশন ফ্যাব্রিকেটেড, ম্যানুফ্যাকচারড।’

অভিষেক ব্যানার্জীর নাম না নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘কেউ অসুস্থ থাকলে টাইম দেবেন কি না সেটা আইও বা অর্গানাইজেশন ঠিক করবে। সেটা আমার ডিপার্টমেন্ট নয়। সংবাদ মাধ্যমে যেভাবে দেখানো হচ্ছে তাতে মনে হতে পারে প্রতিহিংসা-কিন্তু আমরা কোনো প্রতিহিংসা নিতে চাই না। অভিযোগ করেছে আপনাদের দলের দুই বিধায়ক।’