নেত্রকোনায় নিজ বাসার খাটের নিচ থেকে মনোয়ারা বেগম চায়না (৪৮) নামের এক গৃহবধূর হাত-পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন ওই নারীর স্বামী ও এক ছেলে। সোমবার (১ জুন) রাতে জেলা শহরের পৌরসভাধীন কাটলি এলাকার সাব-ঠিকাদার আবু চানের বাড়িতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আহত আবু চান (৬০) ও তার ছোট ছেলে মুন্নাকে (২৫)- আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা আব্দুর রশীদ নামের এক প্রতিবেশী রিকশাচালককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পুলিশ, স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাশের বাড়ির রিকশাচালক আব্দুর রশীদ প্রায় সময়ই মনোয়ারা বেগমের কাছ থেকে টাকা-পয়সা ধার নিতেন। সোমবার সন্ধ্যার পরও রশীদ ওই বাসায় যান। তবে ঠিক কী কারণে বা কেন মনোয়ারাকে হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, সন্ধ্যার পর কোনো এক সময় মনোয়ারাকে হত্যা করে লাশ লুকানোর উদ্দেশ্যে খাটের নিচে রেখে দেয় ঘাতক। পরে ছেলে মুন্না ও বাবা আবু চান বাসায় ফিরলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রশীদ।
এই দিকে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আহত বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সে সময় ঘরে মনোয়ারা বেগমকে দেখতে না পেয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীরা পাশের বাসাসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের ভেতরে খাটের নিচে হাত-পা বাঁধা এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত অবস্থায় মনোয়ারার লাশ দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ঘাতক আব্দুর রশীদকে ধাওয়া করে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।
নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্বজল কান্তি সরকার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে কেন এবং কী কারণে এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতিমধ্যেই গভীর তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত ইতোমধ্যে সিআইডি এবং পিবিআই সদস্যরা কাজ করছেন।