কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক ঘটনায় মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বেল ২টার মধ্যে তাদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুরা হলো- চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর, পর্তুগাল প্রবাসী মো. মিজানুর রহমানের ছেলে আয়ান (১২), উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের মোল্লা বাড়ির সৌদিআরব প্রবাসী ফরহাদ ইবনে মোস্তফার ছেলে মোহাম্মদ (২) এবং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের মাইক্রো চালক মো. হাসানের ছেলে শাহাদাত (৬)।
জানা গেছে, শিশু আয়ান কুমিল্লার একটি স্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। ঈদুল আজহার ছুটিতে সে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সোমবার সকালে গ্রামের বন্ধুদের সাথে সে বাড়ির পাশ্ববর্তী মাঠে খেলাধুলা শেষে কবরস্থান সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নামে। কিছুক্ষণ পরে সে পানিতে ডুবে যায়। সংবাদ পেয়ে স্বজনরা গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বাংপাই গ্রামের মাইক্রো চালক মো. হাসান স্বপরিবারে পাশ্ববর্তী জুগিরহাট গ্রামে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সোমবার সকালে তার ছেলে শাহাদাত ভাড়া বাসার উঠানে খেলছিল। কিছু সময় পর তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের ডাকাতিয়া নদী থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে দ্রুত চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। শাহাদাত স্থানীয় মারকাজুল উলুম মাদরাসার শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
অপরদিকে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট মোল্লা বাড়ীর প্রবাসী ফরহাদ ইবনে মোস্তফার ছেলে মোহাম্মদকে সোমবার দুপুরে দীর্ঘক্ষণ দেখতে না পেয়ে ব্যাপক খোঁজাখুঁজি করে পরিবারের লোকজন। একপর্যায়ে বাড়ির ভেতরের নিজস্ব পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।
একই দিনে মাত্র ছয় ঘন্টার ব্যবধানে পৃথক ঘটনায় তিন শিশুর মৃত্যুর খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র চৌদ্দগ্রামে শোকের আবহ বিরাজ করছে। শিশুদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও বিরাজ করছে গভীর শোক। এসব ঘটনার পর শিশুদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার জন্য মা-বাবাসহ স্বজনদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ সচেতন মহল।
এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী তোফায়েল বলেন, পৃথক ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া তিন শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ক্রমশঃ বাড়ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অসাবধানতা ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকে পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়েছি। ঘটনাগুলোর বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।