মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখান উপজেলায় প্রথম আলোর ফিচার বিভাগের প্রধান আলোকচিত্রী কবির হোসেনকে কুপিয়ে এবং তাঁর ছোট ভাইকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলার সিরাজদীখান উপজেলার লতব্দী ইউনিয়নের দোসরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, লতব্দী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
আহত কবির হোসেন (৪৫) ও তাঁর ছোট ভাই তকবির হোসেন (৪৪) দোসরপাড়া গ্রামের প্রয়াত মালেক মাদবরের ছেলে। স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে কবির হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দোসরপাড়া গ্রামে কবির হোসেনদের পরিচালিত একটি লালন আখড়া রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মাদবর ও ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আলাউদ্দিন মাদবর আখড়া ও এর জমি দখল করে সেখানে ইটভাটা নির্মাণের চেষ্টা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে কবির হোসেনকে হুমকিও দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে কবির হোসেন আখড়ার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকাজ তদারকি করছিলেন। এ সময় জাহাঙ্গীর মাদবর, তাঁর ছেলে তৌহিদ মাদবর, জাহেদ মাদবর, আলাউদ্দিন মাদবর, শাহরিয়ার মাদবর, সংগ্রাম, সাহিল ও আহম্মদ মাদবরসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে হামলা চালান। একপর্যায়ে কবির হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে তাঁর ভাই তকবির হোসেনের ওপরও হামলা চালানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কবির হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে জাহাঙ্গীর ও আলাউদ্দিনরা লালনের আখড়া দখলের চেষ্টা করে আসছিল। আখড়া রক্ষা করতে হলে তারা আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। আমি রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময় আখড়ার লোকজনকে মারধর করেছে। আখড়ায় এসে মাদক সেবন ও ব্যবসা করত। দর্শনার্থীদেরও হয়রানি করত। তারা আখড়াটি পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। আজ আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে।
তবে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারছিলেন না।
স্থানীয় বাউলশিল্পী ও কবির হোসেনের ছোট ভাই তকবির হোসেন বলেন, সময়মতো না গেলে তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলত। আমিও আহত হয়েছি। লালনের আখড়া রক্ষা করতে গিয়ে আমরা হামলার শিকার হয়েছি। এখন আমাদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।
সিরাজদীখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাহানারা আক্তার জানান, দুপুর দেড়টার দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁদের মধ্যে কবির হোসেনের মাথা ও দাঁতে গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম হায়দার আলী বলেন, অপরাধী কেউ দলের নাম ব্যবহার করে রেহাই পাবে না। ঘটনার কথা জানার পর আমরা থানায় গিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অনুরোধ করেছি। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ইতোমধ্যে প্রধান অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।