প্রধানমন্ত্রীর ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত

খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাবও ফেরত

রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনতে দেওয়া নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিগত দিনে সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপিরা অহরহ বিদেশ সফর করতেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজে অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি মন্ত্রীদেরও অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফরে নিরুৎসাহিত করছেন। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম না জড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা গেছে, কেরানীগঞ্জে একটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। এটি হযরতপুর ইউনিয়নে অবস্থিত। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন এ প্রতিষ্ঠান বিদেশগামী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কেরানীগঞ্জ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নাম পরিবর্তন করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার নামে নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে। প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবটি ফিরিয়ে দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রস্তাব না পাঠানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানকে আরও কীভাবে গতিশীল করা যায়, বিদেশগামী যুবকদের কীভাবে ভালোভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া যায় সেদিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রিসভার এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা অহরহ বিদেশ সফর করতেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিরুৎসাহিত করছেন। আমরা তার নির্দেশনা মেনে চলার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ‘সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামকরণের ক্ষেত্রে জিয়া পরিবারের সদস্যদের নাম না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ছিল জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপি ক্ষমতায় এলেও বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি। প্রধানমন্ত্রী বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তনের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা দেননি।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এবং পাঁচজন কর্মকর্তার ‘মশক নিধন শেখা’র জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার অনুমোদন চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ফাইল পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী তা নাকচ করে দেন। শুধু তাই নয়; এক নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।’

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বাবুল প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সবাই এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করছেন।

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে মশা নিধনের উদ্ভাবনী কার্যক্রম পরিদর্শনের অনুমোদন দিলেন না; দিলেন এক যুগান্তকারী নির্দেশনা। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রধানমন্ত্রী একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যাচ্ছেন। তার সেই নজির দৃষ্টান্তগুলোর মধ্যে যুক্ত হলো আরও একটি দৃষ্টান্ত। এভাবেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আলাল বলেন, কথায় কথায় রাষ্ট্রের টাকার অপচয় বন্ধ করার সিদ্ধান্তটি সঠিক হয়েছে। বলা হচ্ছে কোনো এক কোম্পানি তাদের খরচ বহন করত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই কোম্পানি সুদে-আসলে ব্যবসার মাধ্যমে কয়েকগুণ টাকা তুলে নিত। কারণ কোনো কোম্পানি বিনা লাভে কোটি টাকা কারও পেছনে খরচ করবে না।

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর ফ্রান্স সফরের অনুমতি প্রত্যাখ্যান : এদিকে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী সড়কবাতি বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের জন্য ১১ দিনের সফরে ফ্রান্স যেতে চান রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলী। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত অনুমতি চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। রাসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিমের সই করা চিঠিতে বলা হয়েছে, সিগনিফাই বাংলাদেশের আমন্ত্রণে রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন ও নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) এ বি এম আসাদুজ্জামান সুইট ২০ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সিগনিফাই ফ্রান্সের আউটডোর লাইটিং অ্যাপ্লিকেশন (ওলাক) সেন্টার পরিদর্শন করবেন। সেখানে সড়কবাতির নতুন বিদ্যুৎসাশ্রয়ী প্রযুক্তির ওপর জ্ঞান আহরণ করবেন। চিঠিতে এই সফরের অনুমতি দিয়ে সরকারি আদেশ ইস্যু করার আবেদন করা হয়েছে। এ বিষয়ে রাসিক জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পাওয়ার পর ফ্রান্স সফরের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনযায়ী রাসিক প্রশাসক ও নির্বাহী প্রকৌশলীর ফ্রান্স সফরের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মেয়রের আমেরিকা সফরের অনুমতি চেয়ে করা আবেদন ফিরিয়ে দিয়েছেন।’