সাতকানিয়ায় ৯ মামলার আসামি ‘মাস্টার’ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় হাতের আঙুলের নখ ছুরি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা এবং এক নারীর চোখ তুলে ফেলার অভিযোগসহ একাধিক ঘটনায় অভিযুক্ত ও এলাকায় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ৯ মামলার এজাহারনামীয় আসামি মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মাস্টারকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩ জুন) সকালে উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ফকিরখীল গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মোস্তাফিজুর রহমান উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের ফকিরখীল এলাকার মৃত আজিজুর রহমানের ছেলে। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া থানায় মাদকসহ বিভিন্ন আইনে মোট ৯টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তিনি একসময় লোহাগাড়া উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন। সে সূত্রে স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘মাস্টার’ নামে পরিচিত।

থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে তাকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সাতকানিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহির আমিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ফকিরখীল গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন। পরে পুলিশ তাকে পুকুর থেকে উদ্ধার করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে ফকিরখীল গ্রামের একটি দোকানের সামনে স্থানীয় স্বপন দাশ (৭০)-এর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোস্তাফিজুর রহমান তাকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে স্বপন দাশের বাম হাতের একটি আঙুলের নখ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এ ছাড়া এর আগে এক নারীকে নির্যাতন করে তার একটি চোখ নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচারকর্মীকেও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কারও সঙ্গে মতবিরোধ হলেই তাকে মারধর ও ছুরিকাঘাত করতেন মোস্তাফিজুর রহমান। এ ধরনের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আরও জানা যায়, ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা জানিয়ে ফকিরখীল এলাকায় তিনি একটি ব্যানার টাঙিয়েছেন। সেখানে নিজেকে পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয়দের দাবি, কেউ ওই ব্যানার নিয়ে মন্তব্য করলেও তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে যান।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আঙুলের নখ ছুরি দিয়ে বিচ্ছিন্ন করা এবং এক নারীর চোখ তুলে ফেলার অভিযোগসহ মোট ৯টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। এছাড়া এলাকায় বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।