সৌদি আরব থেকে ঢাকায় আসার পর প্রায় ১৫০ হাজি তাদের লাগেজ কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে বিমান কর্তৃপক্ষ বলছে, শাহজালালে লাগেজ কাটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে সৌদি কর্তৃপক্ষ লাগেজ কাটতে পারে।
গতকাল বুধবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক শাহনূর আহমাদ স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লাগেজ কাটা হয়েছে এ রকম কয়েকজন হাজি জানিয়েছেন, তারা লাগেজে জমজমের পানি ও তরল প্রসাধনী নিয়েছিলেন। বিমানের পর্যবেক্ষণ হচ্ছেÑ সৌদি নিয়মানুযায়ী লাগেজে জমজমের পানি বহন একেবারেই নিষিদ্ধ। পাশাপাশি যথাযথ সিলগালা ছাড়া তরল প্রসাধনীও বহন করা যাবে না। সে কারণে স্ক্যানিংয়ে এসব বস্তুর উপস্থিতি পেয়ে লাগেজ কেটে সৌদি বিমানবন্দরে সেগুলো জব্দ করা হতে পারে। গত মঙ্গলবার ভোরে ৪১৯ যাত্রী নিয়ে বিমানের বিশেষ হজ ফ্লাইট ঢাকায় অবতরণ করে। পরে মোস্তফা কামাল পলাশ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়, ওই ফ্লাইটে আসা প্রায় ১৫০ হাজির লাগেজ কেটে মালপত্র চুরি হয়েছে। বিষয়টি বিমান এবং বিমানবন্দরের ভাবমূর্তির সঙ্গে জড়িত হওয়ায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং টিম তাৎক্ষণিকভাবে নিবিড় অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইটটি রানওয়েতে অবতরণের পর রাত ৩টা ৫ মিনিটে প্রথম ব্যাগ এবং রাত ৩টা ৫১ মিনিটে ফ্লাইটের মোট ৮৩৬টি ব্যাগের সবকটি ডেলিভারি বেল্টে দেওয়া হয়। উড়োজাহাজের হোল্ড থেকে কনটেইনার, প্যালেট এবং ট্রলি-ডলির মাধ্যমে লাগেজগুলো যখন ব্যাগেজ ডেলিভারি এরিয়াতে আনা হয়, তখন পুরো পথটি সম্পূর্ণভাবে সিকিউরিটি গার্ডের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে নিয়ে আসা হয়। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি অথরিটির (এভসেক) কর্মকর্তাদের সরাসরি উপস্থিতিতে ট্রলি-ডলি থেকে ব্যাগগুলো ড্রপ করা হয় লাগেজ ডেলিভারি বেল্টে। ২১টি ব্যাগ বিমান থেকে নামানোর সময় ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ অবস্থায় পাওয়া গেছে তথ্য দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, উড়োজাহাজ থেকে ব্যাগ নামানোর সময় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং স্টাফদের গায়ে থাকা বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং বিমানবন্দরের রানওয়ে ও সোর্টিং এরিয়ার সিসি ক্যামেরার ভিডিও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায় ২১টি ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় হ্যান্ডলিং স্টাফরা পান। তবে ফেসবুক পোস্টে ১৫০ যাত্রীর লাগেজ কাটার যে দাবি করা হয়েছে, তার পক্ষে কোনো ‘সুস্পষ্ট অভিযোগ’ নেই দাবি করে বলা হয়েছেÑ প্রকৃতপক্ষে ওই ফ্লাইটে আসা ৮৩৬টি ব্যাগের মধ্যে মাত্র ৫ থেকে ৬ যাত্রী তাদের ব্যাগ ছেঁড়া বা কাটা অবস্থায় পেয়েছেন বলে কর্তব্যরত গ্রাউন্ড স্টাফদের কাছে মৌখিকভাবে জানান।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই লাগেজগুলোর ভেতরে জমজমের পানি, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী (শ্যাম্পু ও লোশন) এবং খেজুর ছিল। যাত্রীদের ব্যাগ থেকে মূল্যবান কোনো সামগ্রী খোয়া যায়নি। তবে একজন যাত্রী তার ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মানিব্যাগ হারানোর কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী, টাকা বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ডিক্লারেশন ছাড়া এ ধরনের সামগ্রী লাগেজে রাখা অ্যাভিয়েশন বিধিমালারও পরিপন্থী বলেছে বিমান।