নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দপুকুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মনসাপাড়া(কুখাপাড়া) এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে গেছে। এঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। বুধবার (৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এতে আট পরিবারের ১১টি ঘর, ২টি গোয়াল ঘর, একটি মটরসাইকেল, ৪টি টিভি, ৩টি ফ্রিজ, নগদ অর্থ, ধান, ভুট্টা, স্বর্ণালঙ্কার, পোশাক, আসবাবপত্রসহ পরিবারের প্রায় সব মূল্যবান জিনিষপত্র আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। এছাড়া ১২টি গরু, একটি ছাগল, হাঁস-মুরগি আগুনে পুড়ে মারা গেছে। এছাড়া আগুন নিভাতে গিয়ে লিটন আলী ও জুয়েল ইসলাম নামে দুইজন আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে নীলফামারী ২৫০ শষ্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুন্দপুকুর ইউনিয়নের প্যানেল ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাত আলম। তিনি জানান, অগ্নিকান্ডে আট পরিবারের প্রায় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে প্রদান করা হবে। দ্রুত তাদের সহায়তা দেয়া হবে।
স্থানীয়রা জানায়, বুধবার রাত ৩টার দিকে উক্ত এলাকায় হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হলে চারদিকে ধানের খড় থাকায় মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক নীলফামারী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এতে গ্রামের আরও ২০টি পরিবার রক্ষা পায়। তবে ততক্ষণে আট পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে যায়।
আগ্নিকান্ডের ঘটনায় মমতাজ আলী, তার তিন ছেলে লিটন আলী, মিলন আলী, মোহাম্মদ বাধন আলীর ৮টি ঘর, দুইটি গোয়াল ঘর, ১২টি গরু, একটি ছাগল, হাঁস-মুরগি, একটি মটরসাইকেল, স্বর্ণালঙ্কার, ৩টি টিভি, ২টি ফ্রিজ, বইপত্র, আব্দুল বারেকের ২টি ঘর, টিভি ফ্রিজ, ফ্যান, নগদ অর্থ, হাঁস-মুরগি, তার দুই ছেলে রুবেল ইসলাম, মোহাম্মদ জুয়েলের আসবাবপত্র, পোশাক, হাঁস-মুরগি এবং মমিনুর রহমানের রান্না ঘর ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে।
নীলফামারী ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মামুন-উর রশিদ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌছে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিটের দুইটি পাম্প আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। চারদিকে ধানের খড় থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তিনি বলেন, আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে গোয়াল ঘরে রাখা কয়েল থেকে এই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায় সর্বস্বহারা পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এছাড়াও বইপুস্তক পুড়ে ছাই হওয়ায় প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।