জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদের নির্বাচনে হেরে গেছে জার্মানি। ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্য নির্ধারিত দুটি অস্থায়ী আসনের এই লড়াইয়ে জার্মানিকে পেছনে ফেলে জয়ী হয়েছে পর্তুগাল ও অস্ট্রিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত ভোটে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্যপদের জন্য নির্বাচন হয়। সেখানে সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্য দেশের মধ্যে পর্তুগাল ১৩৪ ভোট এবং অস্ট্রিয়া ১৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়। এর বিপরীতে জার্মানি পেয়েছে ১০৪টি ভোট। নিরাপত্তা পরিষদে অস্থায়ী সদস্যপদ না পাওয়ায় জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর দায় দিয়েছেন রাশিয়াকে। তার দাবি, ইউক্রেন ও ইসরায়েলের প্রতি বার্লিনের সমর্থনের কারণে দেশটি ভোট হারিয়ে থাকতে পারে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল এই ফলকে ‘তিক্ত পরাজয়’ বলে বর্ণনা করেন।
ওয়াডেফুল বলেন, ইউক্রেনের প্রতি আমাদের দৃঢ় সমর্থন রয়েছে। রাশিয়া চায় না, নিরাপত্তা পরিষদে এমন একটি কণ্ঠস্বর থাকুক। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া জার্মানির বিরুদ্ধে জনমত তৈরির চেষ্টা করেছে, এটি ‘কোনো গোপন বিষয় নয়’। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে- চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এর বাইরে ১০টি অস্থায়ী সদস্য দেশ থাকে। ওয়াডেফুল বলেন, ‘আমরা সব সময় কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছি। কিন্তু এসব অবস্থানের সঙ্গে সব সদস্য রাষ্ট্র একমত নয়।’ তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতি জার্মানিকে সব সময় একটি বিশেষ দায়িত্ব পালন করতে হয়। এ কারণেও হয়তো আমরা কিছু ভোট হারিয়েছি। উল্লেখ্য, জার্মানি এর আগে মোট ছয়বার নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
এবারের নির্বাচনে অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যে আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়ে এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছে। অন্যদিকে, এশিয়া অঞ্চলের আসনে ফিলিপাইনকে ১৪৩-৪৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয়ী হয়েছে কিরগিজস্তান। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদই একমাত্র সংস্থা যা আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর মধ্যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার মতো ক্ষমতাও রয়েছে। জাতিসংঘে এই হার জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্ৎসের জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিরোধী দলগুলো ও সমালোচকদের মতে, মের্ৎস দেশে নানা চাপের মধ্যে রয়েছেন; এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন। কারণ, তিনি নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছিলেন, যিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চে জার্মানির অবস্থান আরও শক্তিশালী করবেন। তবে মের্ৎস বলেছেন, জার্মানি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। তিনি অস্ট্রিয়া ও পর্তুগালকে অভিনন্দনও জানিয়েছেন। মের্ৎস বলেন, এই ফলাফল জাতিসংঘে আমাদের সামনে থাকা দায়িত্বগুলোকে পরিবর্তন করে না।