ইসরায়েলকে অপছন্দ করে বিশ্বের ৬৭ শতাংশ মানুষ

স্বাধীন ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড দখল করে গড়ে ওঠা ইসরায়েলের ভাবমূর্তি ক্রমশ তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় এই চিত্র উঠে এসেছে।

গত বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের কারণেই মূলত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটি জনসমর্থন হারাচ্ছে।

পিউ রিসার্চের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩৬টি দেশের মধ্যে গড়ে ৬৭ শতাংশ মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। এর বিপরীতে মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ দেশটিকে ইতিবাচকভাবে দেখেন।

জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ইসরায়েলের প্রতি বিরূপ মনোভাব সবচেয়ে প্রবল। একই ধরনের তীব্র নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমেও।

তবে এই সমালোচনা শুধু মুসলিম বিশ্বেই সীমাবদ্ধ নেই। ইউরোপের দেশগুলোতেও ইসরায়েল চরম ভাবমূর্তি সংকটে পড়েছে। ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও স্পেনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি মানুষ ইসরায়েল সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক মতামত দিয়েছেন।

পিউর মতে, গাজা যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি আগেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, আর ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর তা আরও খারাপ হয়েছে। যেসব দেশের আগের তথ্যের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব হয়েছে, তার মধ্যে ১৩টিতে ইসরায়েল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে।

উদাহরণ হিসেবে আর্জেন্টিনায় ইসরায়েল সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণকারীর হার ৪৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, নাইজেরিয়া, পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যেও নেতিবাচক মতামত উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লষকরা বলছেন, ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় মিত্র যুক্তরাষ্ট্রেও দেশটির প্রতি শর্তহীন সমর্থন কমতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনন্থি ছাত্রবিক্ষোভ প্রমাণ করে যে, পশ্চিমা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইসরায়েলের নীতি নিয়ে চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

গত বছর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলা ও আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর কর্তৃক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বেশ কয়েক নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে এই বৈশ্বিক জনমতেরই প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিফলন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

সূত্র: আলজাজিরা