একটি শিশুর জন্ম মানেই একটি নতুন স্বপ্নের সূচনা। পরিবারের আনন্দের সেই মুহূর্তকে পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতার সঙ্গে যুক্ত করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুরের একদল তরুণ। নবজাতকের আগমনের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এবং তার ভবিষ্যৎকে সবুজের সঙ্গে যুক্ত করতে শুরু হয়েছে ‘জন্মবৃক্ষ’ কর্মসূচি।
এখন থেকে পটুয়াখালীর সদর উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কোনো পরিবারে নবজাতকের জন্মের খবর পেলেই সেখানে শুভেচ্ছা, দোয়া ও ভালোবাসা নিয়ে হাজির হবেন স্বেচ্ছাসেবীরা। সেই সঙ্গে নবজাতকের নামে বাড়ির আঙিনায় রোপণ করা হবে দুটি গাছের চারা। শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে উঠবে তার নামে লাগানো গাছও। এমনই এক সুন্দর ভাবনা থেকে যাত্রা শুরু করেছে এই উদ্যোগ।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে ‘নতুন প্রাণের আগমনে, দুটি বৃক্ষ আগামীর নামে’ স্লোগানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘তারুণ্যে আউলিয়াপুর’ আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জন্মবৃক্ষ’ প্রকল্পের ঘোষণা দেয়। গতকাল শুক্রবার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে শামীম হাওলাদারের নবজাতক ছেলে সাফোয়ানের নামে দুটি গাছ রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘জন্মবৃক্ষ’ কেবল একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি নতুন প্রজন্মকে পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল করে তোলার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলন। একটি শিশুর জন্ম যেমন একটি পরিবারের জন্য আনন্দের বার্তা, তেমনি একটি গাছ পৃথিবীর জন্য আশীর্বাদ। এই দুই শুভ সূচনাকে একসূত্রে গেঁথে ভবিষ্যৎকে আরও সুন্দর করে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এস এম সোহান বলেন, ‘আমরা চাই আউলিয়াপুরের প্রতিটি শিশুর জন্মের স্মৃতি একটি বৃক্ষের সঙ্গে জড়িয়ে থাকুক। শিশুটি যেমন বড় হবে, তেমনি তার নামে রোপণ করা গাছগুলোও বড় হবে। জন্মবৃক্ষ শুধু বৃক্ষরোপণ নয়, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ অঙ্গীকার। আমাদের স্বপ্ন, একদিন আউলিয়াপুরের হাজারো শিশুর নামে হাজারো বৃক্ষ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।’
সংগঠনের উপদেষ্টা ও উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব মৃধা বলেন, ‘একটি শিশুর সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য যেমন পরিবার প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন একটি বাসযোগ্য পরিবেশ। জন্মবৃক্ষ প্রকল্প নতুন প্রজন্মকে পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দেবে এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সহায়ক হবে।’
সংগঠনের উপদেষ্টা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকটের এই সময়ে নবজাতকের জন্মকে কেন্দ্র করে বৃক্ষরোপণের এমন উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি শুধু প্রশংসনীয়ই নয়, বরং অন্য সামাজিক সংগঠনগুলোর জন্যও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।’
উল্লেখ্য, ‘তারুণ্যে আউলিয়াপুর’ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, পরিবেশ, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ‘জন্মবৃক্ষ’ প্রকল্পের মাধ্যমে সংগঠনটি নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।