সোহরাওয়ার্দীর পরিচালক আওয়ামীপন্থি ডা. রশীদ

‘হেলথ মিনিস্টারের পক্ষ থেকে আমি আসছি’

সম্প্রতি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আওয়ামীপন্থি চিকিৎসক সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) আজীবন সদস্য ডা. মামুনুর রশীদ। আওয়ামী সংগঠনের একজন চিকিৎসক এত বড় দায়িত্ব পাওয়ায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অনেকের জানার আগ্রহ তৈরি হয়, তিনি কীভাবে, কোন যোগ্যতায় বা কত টাকার বিনিময়ে এই পদে দায়িত্ব পেলেন। তবে সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ডা. মামুনুর রশীদ নিজেই জানালেন তিনি দায়িত্ব পেয়েছেন আত্মীয় কোটায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সিলেকশনে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলই তাকে এই দায়িত্বে বসিয়েছেন। তিনি একজন সংসদ সদস্যের ভাতিজিজামাই। তবে এই বিষয়টি জানতে চাইলে পরে কথা বলবেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে ডা. মামুনুর রশীদের দায়িত্ব পাওয়াকে ফ্যাসিবাদের দোষরদের পুনর্বাসনের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা। তাকে দায়িত্ব দেওয়ার পরপরই এই প্রতিবেদকের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রচ- ক্ষোভ প্রকাশ করেন ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ। তিনি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানেরও উদাহরণ দিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, ১৭ বছর ধরে একটি প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব আছে। তাকে এখন যেন না সরানো হয়, সেজন্য একজন সংসদ সদস্য আমাকে অবহিত করেন। তাহলে এত দিন আমাদের যারা অবহেলিত ছিলেন, প্রমোশন পাননি, বঞ্চিত হয়েছেন, তাদের কী হবে। বিএনপির সংসদ সদস্য যখন ফ্যাসিবাদের দোসরদের পক্ষে কথা বলেন, তখন খুবই হতাশ হই।

ড্যাবের মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল সোহরাওয়ার্দীতে স্বাচিপের লোক বসানোয় তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, আবার ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো খুবই এলার্মিং।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল) ডা. সৈয়দ আবু আহমেদ সফি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের  পরিচালক পদে পদায়নকৃত স্বাচিপের লাইফ মেম্বারকে দ্রুত প্রত্যাহর করুন। অন্যথায় আন্দোলন অবশ্যম্ভাবী।’

এদিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই ডা. মামুনুর রশীদকে নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তিনি গত ২০ মে ছাত্রদলের প্রতিরোধের মুখে যোগ না দিয়েই ফিরে যান। পরদিন ২১ মে যোগদান করেন। ড্যাবের এক শীর্ষ নেতা জানান, মামুনুর রশীদ দায়িত্ব পাওয়ার পর আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যান, যাদের মধ্যে একজন ছিলেন জুলাই হত্যা মামলার আসামি।

ডা. মামুনুর রশীদদের যোগদানের পর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বিরাজমান অস্থিরতা গত বুধবার প্রকট আকার ধারণ করে। এদিন সকালে ড্যাব, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স ও ছাত্রদলের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করে তার পদত্যাগের দাবি করা হয়। বিক্ষোভের মুখে কার্যালয় ত্যাগ করেন ডা. মামুনুর রশীদ। তিনি চলে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধরা তার নামফলক সরিয়ে কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দেয়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘হেলথ মিনিস্টারের পক্ষ থেকে আমি আসছি। নরসিংদীর এমপির মাধ্যমে। লালু এমপির ভাতিজিকে আমি বিয়ে করেছি। বুঝছেন? বগুড়াতে আমার শ্বশুরবাড়ি এবং এটা বিটু ভাই জানে। বগুড়ার সবাই জানে। আমি উড়ে এসে জুড়ে বসার লোক না।’

গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ শেষে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলের পরিচালক নিয়োগের পর তৈরি হওয়া অস্থিরতা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। কিন্তু বিষয়টি এড়িয়ে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।