পঞ্চগড়ের সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ১০ জন মানুষ ৩৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অনিশ্চয়তা ও মানবিক সংকটের মধ্যে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতায় তারা এখনো ভারতের অভ্যন্তরে শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
একাধিক কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও শনিবার (৬ জুন) বিকেল পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি।
সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্ত এলাকায় শুক্রবার ভোর থেকে ওই ১০ জন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টির পানিতে ভেজা জমিতে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাধা দেয়। ফলে তারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছে।
ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও উভয় পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অনড় থাকে।
নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, মানবিক দিক বিবেচনায় ওই ব্যক্তিদের ফেরত নিতে বিএসএফকে অনুরোধ করা হয়েছে। তবে বিএসএফ দাবি করেছে, তারা বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ায় তাদের গ্রহণ করা সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের (আইসিপি) মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে পাঠানো উচিত। সীমান্তে জোরপূর্বক পুশ-ইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে টানা ৩৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সীমান্তে আটকে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত সমাধান না হলে প্রতিকূল আবহাওয়া ও খাদ্যসংকট তাদের জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।