ইসলামী ব্যাংক নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ জানিয়েছেন ওলামারা। শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে আজ রবিবার (৭ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে এ প্রতিবাদ জানানো হয়। মানববন্ধনে দেশ বরণ্য ওলামায়ে কেরাম, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে সভাতিত্ব করেন সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ও তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি খলিলুর রহমান মাদানী। অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন ও ড. মুহাদ্দিস মাহমুদুল হাসানের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন লেখক ও ইসলামিক আলোচক মুফতি আলী হাসান ওসামা, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মহি উদ্দিন, বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মিয়াজী। আরও বক্তব্য রাখেন ডক্টর মিম আতিকুল্লাহ, ডক্টর অধ্যক্ষ মহিউদ্দিন আহমাদ, অধ্যক্ষ শহীদুল্লাহ, উপাধ্যক্ষ আনমোলাল উদ্দিন আনম হেলাল উদ্দিন প্রমুখ।
এ সময় মুফতি আলী হাসান ওসামা বলেন, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসে সরকার প্রতিটা সেক্টরে নিজেদের দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি বলেন, জনগণ যদি রাস্তায় নামে তবে সরকার যেসব চেতনার বুলি শোনাচ্ছে কোনো চেতনাই টিকবে না। আপার মতো দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। তবে আপা তো দাদা বাবুদের সহযোগিতায় নিরাপদে পালিয়ে যেতে পেরেছে বর্তমান সরকার পালানোর সুযোগ পায় কিনা সন্দেহ আছে।
ব্যাংকিং সেক্টরে সরকারের হস্তক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করতে সরকার এমন একজনকে গভর্নর নিয়োগ করেছে অর্থনীতিতে যার নূন্যতম জ্ঞান নেই। যিনি একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী কখনো ব্যাংকিং সেক্টরে নেতৃত্ব দিতে পারে না। কারণ তাঁর ব্যাংকিং সেক্টর সম্পর্কে জ্ঞান নেই, দক্ষতা নেই।
অযোগ্য, অদক্ষ একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করায় তিনি আরেক অযোগ্য, অথর্ব, দুর্নীতিবাজ, ব্যাংক লুটেরা খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের মতো পবিত্র স্থানে চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক যাদের উদ্যোগে, যাদের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তাদের নেতৃত্বে পরিচালিত হলে দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে খুব বেশি সময় লাগবে না।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যাংকের একজন সাধারণ গ্রাহকও চুপ করে বসে থাকবে না। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা যেকোনো ষড়যন্ত্র রুঁখে দিতে সক্ষম।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি মহি উদ্দিন বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম পালিয়ে গেছে তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় তিনি ব্যাংক লুটের সাথে জড়িত ছিল। কারণ অপরাধ করেছে বলেই সে পালিয়ে গেছে। একজন ব্যাংক লুটেরার হাতে ইসলামী ব্যাংক কখনো নিরাপদ হতে পারে না। তাই ওলামায়ে কেরামদের পক্ষ থেকে সরকাররের কাছে ম্যাসেজ দিতে চাই একজন ব্যাংক লুটেরাকে ইসলামী ব্যাংকের মতো পবিত্র স্থানে চেয়ারম্যানের চেয়ারে আমরা দেখতে চাই না।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মিয়াজী বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশপ্রেমিক ইসলাম প্রিয় মানুষের ব্যাংক। এই ব্যাংক নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া যাবে না। ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইসলামী ব্যাংক থেকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসরদের অপসারণ করতে হবে। নতুবা ইসলামী ব্যাংকের উপর যেকোনো নগ্ন হস্তক্ষেপ রুখে দিতে আলেম সমাজ গ্রাহকদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করবে।
সভাপতির বক্তব্যে সম্মিলিত ওলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব, তামীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মুফতি খলিলুর রহমান আল মাদানী বলেন, ইসলামী ব্যাংকে জনগণের বিনিয়োগ ও আমানত রক্ষা পরিবর্তে সরকার জনগণের বিনিয়োগ ও আমানত পুরোনো ব্যাংক লুটেরাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। যাতে করে আবারও ইসলামী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক গুলো খালি করা যায়।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা ব্যাংকের ওপর শকুনের থাবা মারার সুযোগ আর দেবে না। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে চক্রান্ত করে কেউ টিকতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ। তিনি আরও বলেন, ইসলামী ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহকের আমানত রক্ষা করতে আজ শীর্ষে ওলামায়ে কেরাম মারকাজ দরবার ছেড়ে রাজপথে নেমে এসেছেন। ঈমানী ও নৈতিক দায়িত্বই ওলামায়ে কেরাম সব সময় হকের পক্ষে সত্যের পক্ষে ন্যায়ের পক্ষে দেশের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।