নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক জোবায়ের (১৮) চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
রবিবার (৮ জুন) সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর পেয়ে শাহবাগ থানা পুলিশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
এদিকে ঘটনার পরপরই থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও পুলিশ মামলা নিতে অনীহা প্রকাশ করে এবং চার দিনেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। জোবায়েরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ অভিযানে নামলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। এ ঘটনায় রাতে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী বন্দর থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
নিহত জোবায়ের পাবনা সদর উপজেলার রাজাপুর এলাকার জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা এনায়েতনগর এলাকায় শাহীন মিয়ার বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জোবায়ের। তিনি সোনাকান্দা এনায়েতনগর ভাঙা সেতুর উত্তর পাশের ঢালে পৌঁছালে ওত পেতে থাকা কয়েকজন ছিনতাইকারী তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। স্থানীয়দের দাবি, চিহ্নিত ছিনতাইকারী মেহেদী হাসান মানিক, নাক্কি সজিবসহ তিনজন এ হামলায় জড়িত ছিলেন। হামলাকারীরা জোবায়েরকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে প্রথমে নারায়ণগঞ্জ খানপুর হাসপাতালে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার পরদিন নিহতের বাবা জাহাঙ্গীর মিয়া থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তবে অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা নিতে গড়িমসি করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
জোবায়েরের মৃত্যুর সংবাদ এলাকায় পৌঁছানোর পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন জানান, অভিযুক্ত মেহেদী হাসান মানিককে পুলিশের ওপর হামলার একটি পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জোবায়েরের মৃত্যুর পর তাকে এ হত্যা মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।