মাল্টার উপকূলে প্রায় ৬০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবি, ১০ লাশ উদ্ধার

ভূমধ্যসাগরের মাল্টা উপকূলে প্রায় ৬০ জন শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীবাহী একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড।

কোস্টগার্ড জানিয়েছে, রবিবার (৭ জুন) লিবিয়া থেকে রওনা হওয়া ট্রলারটি মাল্টা থেকে প্রায় ৪৫ নটিক্যাল মাইল (৮৩ কিলোমিটার) পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার পর ভূমধ্যসাগর থেকে একটি মাছ ধরার নৌকা প্রথমে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করে। পরে ইতালীয় কোস্টগার্ডের একটি টহল জাহাজ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালিয়ে ১০টি মরদেহ উদ্ধার করে। মাল্টা কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে ওই এলাকায় এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইউরোপে পৌঁছানোর মরিয়া চেষ্টায় শরণার্থী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার ঘটনায় চলতি বছরে ভূমধ্যসাগরে এটিই সর্বশেষ ট্রলারডুবির ঘটনা।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, ২০১৪ সালের পর থেকে চলতি বছরের শুরুটা ছিল ভূমধ্যসাগরের সবচেয়ে মারাত্মক ও ঝুঁকিপূর্ণ সময়। আইওএম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় এ পর্যন্ত অন্তত ৯৯০ জন মারা গেছেন। আর গত বছর (২০২৩ সালে) এই সংখ্যাটি ছিল আরও ভয়াবহ- কমপক্ষে ২ হাজার ১৮০ জন মানুষ সমুদ্রের এই বিপজ্জনক পথে প্রাণ হারিয়েছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন।

সাম্প্রতিক এই প্রাণহানির ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাজনীতিবিদ এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলো নীতিগতভাবে নতুন কিছু নিয়মের ব্যাপারে একমত হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যেসব আশ্রয়প্রার্থীয়ের আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করা হবে, ইউরোপীয় সরকারগুলো তাদের তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠাতে পারবে। গত সোমবার এই চুক্তিটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়, যা গত বছরের নভেম্বরে প্রথম প্রস্তাব করেছিল ইউরোপীয় কমিশন।

প্রস্তাবিত এই নীতিমালার অধীনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে তথাকথিত ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তবে এই কেন্দ্রগুলো ঠিক কোন কোন দেশে স্থাপন করা হবে, সে বিষয়ে ইইউ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দেশের নাম ঘোষণা করেনি।

এদিকে, এই সপ্তাহের শুরুর দিকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সদর দপ্তরের বাইরে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে তুমুল বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জাতিসংঘ লিবিয়াতেই অনিবন্ধিত বা অবৈধ অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে।

বিক্ষোভের সময় লিবীয় নাগরিকরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে অংশ নেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল- ‘আমাদের দেশের প্রতি ভালোবাসা কোনো বর্ণবাদ নয়’ এবং ‘লিবিয়া বিশ্বের আবর্জনার স্তূপ নয়’।

লিবিয়ায় নিয়োজিত জাতিসংঘের মিশন (ইউনসমিল) নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারের বিষয়টিকে স্বীকৃতি দিলেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, দেশটিতে জাতিসংঘের কাজ নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং ঘৃণামূলক বক্তব্য’ ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং জাতিসংঘের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উসকানি দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

সূত্র: আল-জাজিরা