শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে রহস্যজনকভাবে মাটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে ধোঁয়া বের হওয়ার ঘটনায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এদিকে তদন্তে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর একটি বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার কথা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্র, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, গত শুক্রবার থেকে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান প্রবেশপথসংলগ্ন এলাকায় মাটি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠে। প্রায় ৫০ ফুট এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই তাপমাত্রা রোগী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে।
শনিবার দুপুরে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশে গর্ত খোঁড়ার সময় সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী বের হতে দেখা যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি ছিটিয়ে মাটির নিচের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালালেও তাৎক্ষণিকভাবে সফল হননি। পরে পুরো এলাকাটি নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়।
ঘটনাস্থলে রহস্যের উৎস অনুসন্ধানে খননকাজের জন্য একটি স্ক্যাভেটর (ভেকু) আনা হয়েছে। একই সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগের সদস্যরা সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছেন।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহকারী তামিম জানান, তিনি প্রথম বিষয়টি লক্ষ্য করেন। আমি ওই স্থান দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গরম অনুভব করি। পরে মাটি স্পর্শ করে দেখি অস্বাভাবিক গরম। এরপর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানাই।
স্থানীয় শওকত হোসেন বলেন, এমন ঘটনা আর কখনো দেখিনি। তাই দেখতে এসেছি। মাটি উত্তপ্ত ও গর্ত থেকে ধোঁয়া উঠার কারণ জানার আগ্রহ আমাদের।
গোসাইরহাট উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাষ্টার আবুল বাশার বলেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পানি দিয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বারবার চেষ্টা করে মাটির নিচের তাপ কমানো চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাপ কমছে না। যায়গাটি রাখা হয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনীতে। আমরা ধারণা করছি মাটির নিচে ময়লার স্তূপ থেকেই এমনটা হচ্ছে। পেট্রোবাংলার লোকজন আসলে যানা যাবে রহস্যজনক এই ঘটনার কারণ।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হাফিজুর রহমান মিঞা বলেন, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত না হলেও সকলের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ অফিসকে ব্যাপারটা জানিয়েছি।
গোসাইরহাট উপজেলা পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম আব্দুল মতিন বলেন, বিদ্যুৎ থেকে ঘটনার সূত্রপাত না। তবুও ঘটনাস্থলের খুঁটির বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করা হয়েছে।