চট্টগ্রামে শিশু ধর্ষণের মামলায় চার্জশিট দাখিলের পাঁচ দিনের মধ্যেই একমাত্র আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আজ বুধবার থেকে চাঞ্চল্যকর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা।
পাঁচ কার্যদিবসে তদন্ত শেষে গত ৪ জুন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ৬-এ ওই মামলার চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নগরের বাকলিয়া থানার পরিদর্শক তানভীর আহমেদ। গত রবিবার আসামির বিচারের জন্য ওই চার্জশিট আসে চট্টগ্রাম মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে।
মঙ্গলবার একমাত্র আসামি মনির হোসেনের উপস্থিতিতে অভিযোগ গঠনের শুনানি হয়। ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ বলেন, শুনানিতে আসামি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। বিচারক অভিযোগ গঠন করে মামলার বাদীসহ ৯ সাক্ষীকে আজ বুধবার আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত ২১ মে দুপুরে নগরের বাকলিয়ার নুর হোসেন চেয়ারম্যানঘাটা আবু জাফর রোড এলাকায় চার বছরের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে আটক করেন এলাকাবাসী। ৩০ বছর বয়সী মনির ওই এলাকার ‘ভাই ভাই ডেকোরেশনের’ কর্মচারী ছিলেন। তাকে আটকের ঘটনায় নিয়ে পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল বাকলিয়া। শিশুটির বাবা মেহেদী হাসান বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওইদিন আসামি মনির দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
পুলিশ বলছে, ভুক্তভোগী শিশুর চিকিৎসা প্রতিবেদন, ডিএনএ রিপোর্ট, সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে নগরের বাকলিয়া এলাকার মিয়াখান নগরে বসবাস করেন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মনির হোসেনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।