রহস্যময় পাতাল শহর

গ্রীষ্মের তীব্র  দাবদাহে আমরা যখন অতিষ্ঠ হয়ে ওঠি, তখনও ভাবি, ইশ! মাটির নিচে বাড়ি বানাতে পারলে কতই না ভালো হতো? কিন্তু আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কিন্তু অসম্ভব কাজকেই সম্ভব করেছে, একটি শহরের মানুষ। শহরের নাম ডেরিনকুয়ু। ইউরেশিয়ান দেশ তুরস্কের ইস্তাম্বুল থেকে ৭৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নেভশেহির প্রদেশের কাপাডোসিয়ায় অবস্থিত, মাটির নিচে ছিল রহস্যময় শহর। 

ডেরিনকুয়ু শহরের ইতিহাস : তুরস্কের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মতে, ইন্দো-ইউরোপীয় ফ্রিজিয়ান জাতিগোষ্ঠীর মানুষজন আনুমানিক ৭৮০ থেকে ১১৮০ খ্রিস্ট পূর্বে বাইজেন্টাইন আমলে ডেরিনকুয়ু শহর তৈরি করে। এটি ৪৪৫ কিমি এলাকা জুড়ে গঠিত হয়।  ডেরিনকুয়ু জনসংখ্যা ছিল ২০,০০০-এর মতো ছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রতœতাত্ত্বিকরা পঞ্চম ও দশম শতকের অস্তিত্ব পান বিভিন্ন আলামত থেকে। চতুর্দশ শতাব্দীতে খ্রিস্টানরা দুর্র্ধর্ষ মঙ্গোলিয়ানদের আক্রমণ থেকে বাঁচতে এই শহরে আশ্রয় নিতেন।

শহরের গঠন : ডেরিনকুয়ু শহরের স্ট্রাকচার আর দশটি শহরের মতো নয়! অবাক তথ্য যে, আঠারো তলার শহর ছিল এটি। শহরে অন্য সব শহরের মতো বাড়িঘর, চার্চ, কবরস্থান, স্কুল,  কুয়ো, আস্তাবল, সবকিছু ছিল। এই শহর থেকে অনেক শিলালিপি আবিষ্কার হয়েছে। এগুলো বিলুপ্ত ফ্রিজিয়ান ভাষায় লেখা। এমনকি আরব-বায়জেন্টাইনের বিভিন্ন যুদ্ধ বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শহরের বাসিন্দারা বিশাল বাঙ্কার ব্যবহার করতেন বলে ধারণা করা হয়।  পর্যটকদের ভ্রমণের জন্য খুবই আকর্ষণীয় ডেরিনকুয়ু। এই শহরটি একবার দেখার জন্য প্রতি বছর বহু পর্যটক সেখানে যান।