১৪শ ডলারে টিকিট কিনেও বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন বিসর্জন

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে না হতেই টিকিট, যাতায়াত খরচ ও ভিসা সংক্রান্ত নানা জটিলতায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফুটবল সমর্থকেরা। এমনকি অনেক আন্তর্জাতিক ভক্ত টিকিট কেনার পরও আকাশচুম্বী ব্যয়ের কারণে শেষ মুহূর্তে তাদের বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন বিসর্জন দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বাসিন্দা ইজরয় ইসহাক এমনই এক ভুক্তভোগী। নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ক্যাটগরি-২ এর তিনটি ম্যাচের টিকিটের জন্য তিনি প্রায় ১,৩৯৫ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৬৩ হাজার টাকার বেশি) খরচ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিমান ভাড়া, হোটেল খরচ ও যাতায়াত ব্যয়ের হিসাব কষে তিনি বুঝতে পারেন, এই খরচ তাঁর প্রাথমিক ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।

কাতার বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে ইসহাক বলেন, "২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্যাটগরি-২ এর টিকিটের দাম ছিল ২০০ ডলারেরও কম। এবার টিকিটের দাম তো বেশিই, তার ওপর কোনো ফ্রি পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি।" অগত্যা বাধ্য হয়েই ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে টিকিটগুলো ফেরত দিয়েছেন তিনি।

পূর্ববর্তী বিশ্বকাপের তুলনায় সুযোগ-সুবিধার অভাব:

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপ কিংবা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে 'ফ্যান আইডি' ব্যবস্থার মাধ্যমে টিকিটধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করা হয়েছিল এবং বিনামূল্যে স্থানীয় গণপরিবহন ব্যবহারের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। ফলে সাধারণ পর্যটকদের মতোই কঠিন ও দীর্ঘ ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের।

ভিসা বিতর্ক ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ:

ইতিমধ্যেই এই টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে একাধিক ভিসা বিতর্ক সামনে এসেছে। একজন স্কটিশ ফুটবল ভক্তের মার্কিন ভিসা ফ্লাইটের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে বাতিল করা হয়। অন্যদিকে সোমালিয়ার ইতিহাসে প্রথম রেফারি হিসেবে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার জন্য মনোনীত হওয়া ওমর আরতানকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি, যা আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

টিকিট বণ্টন নিয়েও সাধারণ দর্শকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা গেছে। এক বাবা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি তাঁর সন্তানের জন্য সামনের সারির 'ড্রিম সিট' কিনলেও ফিফা পরবর্তীতে তাদের আসন পরিবর্তন করে দেয়। অতিরিক্ত খরচ ও ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে কিছু কিছু ম্যাচে গ্যালারি ফাঁকা থাকার আশঙ্কাও করছেন বিশ্লেষকরা।

"বিশ্বকাপ ধনীদের জন্য নয়, ভক্তদের জন্য"

হতাশা ব্যক্ত করে ইজরয় ইসহাক বলেন, "আমার মনে হয় ফিফা এবং আয়োজক দেশগুলো ফুটবল সমর্থকদের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। ভিসা সহজীকরণ না করা, ফ্রি যাতায়াত সুবিধা না থাকা এবং অতিরিক্ত আবাসন খরচের কারণে সাধারণ ভক্তদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপ শুধু ধনকুবেরদের জন্য হওয়া উচিত নয়, এটি সাধারণ ফুটবল ভক্তদের টুর্নামেন্ট।"

মাঠে গিয়ে খেলা দেখার স্বপ্ন ভঙ্গ হলেও, টিভির সামনে বসেই প্রিয় দলের জন্য গলা কাটবেন বলে জানিয়েছেন এই ফুটবল অনুরাগী।