বিশ্বকাপ যার জীবন কেড়ে নিয়েছিল

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম

বিশ্বকাপের ট্র্যাজেডি যখন বাস্তব জীবনের নির্মমতা
বিশ্বকাপ টুর্নামেন্ট সবসময়ই ব্যক্তিগত জয়, ট্র্যাজেডি, অবিশ্বাস্য নাটকীয়তা এবং রাজনৈতিক জটিলতার এক অপূর্ব মিশ্রণ নিয়ে আসে। সর্বকালের সেরা কিছু ফুটবল চলচ্চিত্র এই বিষয়গুলোকে অত্যন্ত নিপুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছে, যেখানে খেলাধুলার বিশাল প্রভাব গভীর ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে তুলে ধরা হয়েছে। 

৫) দ্য মিরাকল অফ বার্ন 

‘দ্য মিরাকল অফ বার্ন’ ২০০৩ সালের একটি প্রশংসিত জার্মান ঐতিহাসিক স্পোর্টস ড্রামা। চলচ্চিত্রটিতে লুবানস্কি পরিবারের জীবনযাত্রার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী জার্মানির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে দেশটির ট্রমা, দারিদ্র্য এবং নিজেদের নতুন করে খুঁজে পাওয়ার লড়াই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর সমান্তরাল এক গল্পে দেখানো হয়েছে জার্মান জাতীয় ফুটবল দল "ডাই মানশাফট"-এর এগিয়ে যাওয়ার গল্প। টুর্নামেন্টের শুরুতে হাঙ্গেরির কাছে ৮-৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পর, ফাইনালে সেই শক্তিশালী "মাগিয়ার্স" (হাঙ্গেরি)-দের বিপক্ষেই ৩-২ ব্যবধানে ঘুরে দাঁড়িয়ে অবিশ্বাস্য এক জয় ছিনিয়ে নেয় জার্মানি।

৪) দ্য কাপ 

১৯৯৮ সালের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে ভারতে নির্বাসিত একটি তিব্বতি মঠে ফুটবল জ্বরের এক বিশাল জোয়ার। ফুটবলের প্রতি প্রচণ্ড পাগল দুই তরুণ সন্ন্যাসী কীভাবে যেকোনো মূল্যে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ পাওয়ার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালায়, তা-ই এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চলচ্চিত্রটি তিব্বতি শরণার্থীদের বাস্তবতাকে আলতোভাবে স্পর্শ করে এবং বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের প্রাচীন জীবনযাত্রার সাথে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আধুনিক উন্মাদনার এক চমৎকার বৈপরীত্য তুলে ধরে, যা বিশেষ করে বিশ্বকাপের সময় জীবন্ত হয়ে ওঠে।

তিন চলচ্চিত্রের পোস্টার

৩) হিরো: দ্য অফিশিয়াল ১৯৮৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ফিল্ম 

টনি মেলাম পরিচালিত এবং ব্রিটিশ হলিউড অভিনেতা মাইকেল কেইন-এর ধারাভাষ্যে নির্মিত এই তথ্যচিত্রটি ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ম্যাচগুলোর বিবরণ তুলে ধরে। খেলোয়াড়দের গভীর আবেগ এবং ফুটবলের সহজাত সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তুলতে এতে প্রোগ্রেসিভ রক মিউজিশিয়ান রিক ওয়েকম্যানের তৈরি করা এক দারুণ আবহসংগীত ব্যবহার করা হয়েছে। চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা, যেখানে তাঁর কুখ্যাত "হ্যান্ড অফ গড" গোল এবং অনবদ্য "গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি" ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

২) দ্য গেম অফ দেয়ার লাইভস 

১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে  যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ফুটবল দলের অবিশ্বাস্য এক সত্য গল্প উন্মোচন করার জন্য ‘দ্য গেম অফ দেয়ার লাইভস’ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছিল। সেই আসরে আন্ডারডগ হিসেবে খেলতে নেমে তারা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন ঘটিয়েছিল এবং ফেভারিট ইংল্যান্ড দলকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল। চলচ্চিত্রে গোলরক্ষক ফ্রাঙ্ক বোরগির ভূমিকায় জেরার্ড বাটলার এবং জয়সূচক গোলদাতা জো গায়েতজেন্সের ভূমিকায় জিমি জিন-লুইস অভিনয় করেছেন। ডিশওয়াশার, মেল ক্যারিয়ার এবং ফিউনারেল ডিরেক্টরদের মতো সাধারণ অপেশাদার খেলোয়াড়দের একটি দল কীভাবে বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম বড় ধাক্কা তৈরি করেছিল, চলচ্চিত্রটি সেই গল্পই বলে।

১) দ্য টু এসকোবার্স 

সর্বকালের সেরা স্পোর্টস ডকুমেন্টারিগুলোর অন্যতম হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত ‘দ্য টু এসকোবার্স’ দেখায় কীভাবে কুখ্যাত ড্রাগ লর্ড পাবলো এসকোবার এবং সবার প্রিয় ফুটবল তারকা আন্দ্রেস এসকোবারের জীবন, মৃত্যু ও উত্তরাধিকার এক করুণ ট্র্যাজেডিতে জড়িয়ে গিয়েছিল। চলচ্চিত্রটিতে তুলে ধরা হয়েছে কীভাবে মাদক সম্রাট পাবলো এসকোবারের মৃত্যুর পর পুরো দেশজুড়ে সহিংসতা, জুয়া সিন্ডিকেট এবং প্রতিদ্বন্দ্বী কার্টেলগুলোর তাণ্ডব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি আত্মঘাতী (ওন গোল) গোল করার কারণে আন্দ্রেস এসকোবারকে তার চরম মূল্য দিতে হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত