ঘাটতি বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণগ্রহণের ক্ষেত্রে খুব সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ। দেশ রূপান্তরকে দেওয়া বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতে যেন সরকার অপ্রয়োজনীয় ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে।সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার।
একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় রেখে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবসম্মতভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। কারণ রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি দেখা দিলে সরকারের ব্যাংকঋণের প্রয়োজন আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যতটুকু ঋণগ্রহণ একান্ত প্রয়োজন, সরকারকে ততটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা জানান।
এম মাসরুর রিয়াজ বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উত্তরণে বিনিয়োগকে সচল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিনিয়োগ যদি সচল করা না যায়, তবে কর্মসংস্থান, রপ্তানি, বৈচিত্র্যকরণ এবং উৎপাদনশীলতা সবকিছুই আটকে যাবে।’ মাসরুর রিয়াজ বলেন, “বর্তমানে বিনিয়োগ পরিস্থিতি ‘তলানিতে’ এসে ঠেকেছে, যার থেকে উত্তরণে বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। ‘আমাদের অর্থনীতির চাকা ধীর হয়ে গেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের প্রবৃদ্ধি ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে (৪ দশমিক ৭ শতাংশ) নেমে এসেছে। এটি বিনিয়োগের জন্য অশনিসংকেত।’
তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগ-পরিবেশ এখন একটি ভাঙা ঘর। এ বাড়ি মেরামত না করে যদি আমরা ভাড়াটে বা বিনিয়োগকারী খুঁজতে যাই, তবে তারা হতাশ হয়ে ফিরে যাবে।’
মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের উৎপাদনশীলতার সক্ষমতা গত ১৫ বছরে থমকে গেছে। অবকাঠামোতে ব্যয় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু উৎপাদনশীলতা বাড়াতে দক্ষতা, প্রযুক্তি বা মানবসম্পদে বিনিয়োগ হয়নি। আমরা ভারত, থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের চেয়ে উৎপাদনশীলতায় পিছিয়ে আছি।’
বাজেট বাস্তবায়নে মাসরুর রিয়াজ তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘যেহেতু আগামী বছরেও রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে না, তাই সরকারকে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) বা বেসরকারি বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করতে হবে। যে প্রকল্পগুলো থেকে বাণিজ্যিক রিটার্ন আসার সম্ভাবনা আছে, সেখানে সরকারি টাকা খরচ না করে বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো উচিত।’ মাসরুর রিয়াজ বলেন, “বাজেটে কখনোই সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। তৃতীয়ত, কেবল উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বা ‘অ্যাসপিরেশনাল প্ল্যান’ তৈরি করলেই হবে না; এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর দিতে হবে।”
মাসরুর রিয়াজ বলেন, ‘আমাদের অনেক ভালো পরিকল্পনা আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন না হলে সে কথাগুলো কেবল কথাই থেকে যাবে। জনগণের ও ব্যবসায়ীদের আকাক্সক্ষার সঙ্গে প্রাপ্তির যে ব্যবধান, তা ঘোচাতে হলে যা বলছি তা কাজে করে দেখাতে হবে।’