এক ম্যাচ বাকি থাকতেই বাংলাদেশের সিরিজ জয়

দুর্বার বাংলাদেশ! চোট আর নানামুখী মাঠের বাইরের জটিলতাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ২২ গজে আরও একটি রূপকথা লিখল মেহেদী মিরাজের দল। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সফরকারীদের ৫ উইকেটে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরল টাইগাররা। তাসকিন-মোস্তাফিজের আগুন ঝরানো বোলিংয়ের পর সৌম্য, শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। তবে ইনিংসের প্রথম ওভারেই আঘাত হানেন গতি তারকা তাসকিন আহমেদ। শূন্য রানেই ম্যাথু শর্টকে বোল্ড করে অজি শিবিরে প্রথম ধাক্কা দেন তিনি। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের বলে কুপার কনোলিও শূন্য রানে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। কিছুক্ষণের মধ্যে ম্যাট রেনশকেও শূন্য রানে সাজঘরের পথ দেখান মুস্তাফিজ।

মাত্র শূন্য রানে ৩ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল অস্ট্রেলিয়া, তখন জশ ইংলিশ (৩৪) এবং ক্যামেরন গ্রিন (২৫) মিলে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তানভীর ইসলামের ঘূর্ণিতে এই জুটিও বেশিদূর এগোতে পারেনি। এক প্রান্ত আগলে রেখে অজিদের ইনিংসে প্রাণ ফেরান মারনাস লাবুশেন। ৮৫ বলে ৩টি চারের সাহায্যে তিনি খেলেন ধৈর্যশীল ৫৫ রানের এক অপরাজিত ইনিংস। শেষের দিকে জেভিয়ার বার্টলেট রীতিমতো টি-টোয়েন্টি স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে মাত্র ৪৮ বলে ৫২ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেললে ৪২ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান তুলতে সক্ষম হয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর বৃষ্টির কারণে দীর্ঘক্ষণ খেলা বন্ধ থাকার পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস আর এগোয়নি। বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩৩ রানে ৩টি এবং মোস্তাফিজুর রহমান মাত্র ২৭ রান খরচায় ৩টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া তানভীর ইসলাম নেন ২টি উইকেট।

১৯২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশও। দলীয় শূন্য রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তবে শুরুর সেই ধাক্কা গায়ে লাগতে দেননি আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার এবং অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজনে গড়েন ৮৬ রানের চমৎকার এক জুটি। ৪৭ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪২ রান করে সৌম্য যখন আউট হন, ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের হাতে।

অধিনায়ক শান্তও খেলেছেন ৪১ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস। লিটন দাস দ্রুত ২১ রান করে আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরেন ইনফর্ম ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। শেষ পর্যন্ত ৫৫ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এই তরুণ তুর্কি। লোয়ার অর্ডারে মোসাদ্দেক হোসেনের ১৫ এবং মেহেদী হাসান মিরাজের অপরাজিত ২২ রানের কার্যকরী ইনিংসে ভর করে ৩৫ ওভারেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে (১৯৫ রান) পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।