ইব্রাহিমোভিচসুলভ চিরচেনা অহংকার আর খোঁচায় ফুটবলবিশ্বে আবারও বিতর্ক তুললেন তুললেন সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের চেয়ে নিজেকে অনেক বেশি বহুমুখী স্ট্রাইকার হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।
চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচারকারী চ্যানেল 'ফক্স স্পোর্টস'-এ বিশেষজ্ঞ পন্ডিত (এক্সপার্ট) হিসেবে কাজ করছেন ইব্রাহিমোভিচ। সেখানে এক লাইভ অনুষ্ঠানে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল—হালান্ড কি ইতিমধ্যেই ইব্রাহিমোভিচের চেয়েও উচ্চতর স্তরে পৌঁছে গেছেন?
সুইডিশ এই কিংবদন্তি বরাবরের মতোই সোজাসাপ্টা এবং অহংকারী জবাব দেন। স্টুডিওতে বসে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, "আমি এটা নিশ্চিত নই। এই 'প্রকৃতির বিস্ময়' (নিজের দিকে ইঙ্গিত করে)-এর স্তরে পৌঁছাতে হলে তাকে আরও অনেক কিছু করতে হবে।"
হালান্ডকে নিজের স্তরে আসতে হলে কী করতে হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিমোভিচ দুজনের খেলার ধরনের পার্থক্য টেনে বলেন, "সে গোল করে এবং বক্সের ভেতর একজন 'কিলার' (খুনি)। কিন্তু আমি ছিলাম অনেক বেশি বহুমুখী। আমি বল পায়ে খেলতে পছন্দ করতাম। সে বক্সের ভেতর দারুণ বুদ্ধিমান এবং যা করা দরকার ঠিক সেটাই করে, এর বাইরে বাড়তি কিছু করতে যায় না। সে অহেতুক শক্তি অপচয় করে না।"
এরপরই হালান্ডের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার মনে করিয়ে দিয়ে রসাত্মক খোঁচা মারেন জ্লাতান। তিনি বলেন, "আমি তার একটা ইন্টারভিউ দেখেছিলাম, যেখানে সে বলেছিল যে তার স্বপ্ন হলো ম্যাচে মাত্র দুবার বল ছোঁয়া এবং তাতেই দুটি গোল করা। আর আমার স্বপ্ন ছিল—দুবার বল ছুঁয়ে তিনটি গোল করা!"
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চলের (সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক ইত্যাদি) সেরা ফুটবলার হিসেবে হালান্ডকেই বিবেচনা করা হচ্ছে। ব্যালন ডি’অর-এর মঞ্চেও শীর্ষস্থানগুলোর জন্য লড়াই করেছেন এই নরওয়েজীয় তারকা। (যদিও গত বছর সুইডেনের ভিক্টর গিওকেরেস ব্যালন ডি’অরে ১৫তম হয়ে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেয়েছিলেন)।
চলমান বিশ্বকাপে ‘বি’ গ্রুপে আগামী বুধবার ইরাকের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে হালান্ডের নরওয়ে। গ্রুপ পর্বে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ সেনেগাল এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স। বিশ্বকাপের মাঠে নামার আগেই ইব্রাহিমোভিচের এমন মন্তব্য হালান্ডের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করবে নাকি তাঁকে আরও তাঁতিয়ে দেবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।