ইতিহাসের পাতা ওল্টালে চব্বিশ বছর আগের সেই স্মৃতি এখনও ফরাসি ফুটবলের বুকে এক বড় ক্ষত। ২০০২ সালের কোরিয়া-জাপান বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল পুঁচকে সেনেগাল। ইতিহাসের অন্যতম সেরা সেই অঘটনের ট্র্যাজেডি ভুলে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের নতুন মঞ্চে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে এই দুই পরাশক্তি। আগামী মঙ্গলবার (১৬ জুন) নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে মাঠে নামার আগে আফ্রিকান সিংহদের নিয়ে বেশ সতর্ক ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। সেনেগালকে একটি "দুর্দান্ত দল" হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড।
ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ‘এমসিক্স’ -কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন গ্যালাকটিকো তারকা বলেন, "বিশ্বকাপ সবসময়ই রোমাঞ্চকর ম্যাচে ঠাসা থাকে। আমরা লড়তে যাচ্ছি আফ্রিকার অন্যতম সেরা এক দলের বিরুদ্ধে। ফ্রান্স আর সেনেগালের ফুটবলীয় ইতিহাস ম্যাচটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করে তুলবে, যা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। দারুণ একটা লড়াই হতে যাচ্ছে।"
ম্যাচের সময় নিয়ে রসিকতা করে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, "ফ্রান্সের সময় অনুযায়ী ম্যাচটি রাত ৯টায় শুরু হবে। তখন শিশুরা ঘুমাতে যাবে না, তাই আমাদের দায়িত্ব শুরু থেকেই ভালো খেলা উপহার দেওয়া। এই ম্যাচটি আমাদের প্রাথমিক সব সংশয় ও জড়তা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। মাঠে নামার আগে অনেকের মনেই হয়তো কিছুটা উদ্বেগ থাকবে, তবে আমাদের মাঝে কোনো ভয় নেই। আমাদের লক্ষ্য শুরুতেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নেওয়া।"
ফুটবল বিশ্বে ফ্রান্সের আধিপত্য চিরচেনা। ১৯৯৮ ও ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে সেনেগালও চারবার বিশ্বকাপে (২০০২, ২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) জায়গা করে নিয়ে নিজেদের আফ্রিকার অন্যতম সেরা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সেনেগালের সাবেক ফরাসি কোচ অ্যালাইন জিরেস এবার আফ্রিকার দলগুলোকে নিয়ে বেশ বড় স্বপ্ন দেখছেন। কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর সেমিফাইনালে ওঠার নজির টেনে তিনি বলেন, "প্রতিটি বিশ্বকাপেই আফ্রিকার ফুটবল ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। এবার আফ্রিকা থেকে ১০টি দেশ খেলছে, তাই সেমিফাইনালে একাধিক আফ্রিকান দলের যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আমার বিশ্বাস, একদিন কোনো আফ্রিকান দেশ বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলবে। আর সেনেগালের কথা বললে—তাদের অন্তত সেমিফাইনালে ওঠার মতো ফুটবলীয় সামর্থ্য রয়েছে।"
জিরেস আরও মনে করেন, শুধু সেনেগাল বা মরক্কো নয়—আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোও (ডিআরসি) এবার বিশ্বমঞ্চে বড়সড় ধামাকা দেখানোর ক্ষমতা রাখে।
২০০২ সালে প্রয়াত মিডফিল্ডার পাপা বুবা ডিওপের সেই ঐতিহাসিক গোলে ফ্রান্সকে বিদায়ঘণ্টা শুনিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত রূপকথার যাত্রা করেছিল সেনেগাল। এবার সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে মরিয়া তারা। গ্রুপ ‘আই’-এ ফ্রান্স ছাড়াও সেনেগালের বাকি দুই প্রতিপক্ষ নরওয়ে (২২ জুন) এবং ইরাক (২৬ জুন)। ফরাসিদের গতি বনাম সেনেগালের শারীরিক ফুটবল—বিশ্বকাপের শুরুতেই আরেকটি মহাকাব্যিক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
যুদ্ধের প্রভাব: বিশ্বকাপ নিয়ে চরম দোটানায় ইরানি-আমেরিকান ভক্তরা