শিশু অর্ণবকে বাঁচাতে কিডনি বিক্রি করতে চান মা

মাত্র ১৪ মাস বয়স ফুটফুটে শিশু অর্ণবের। এখনো দুনিয়ার কিছুই বুঝার বয়স হয়নি তার। যে বয়সে পুরো পরিবার মাতিয়ে রাখার কথা, সে বয়সেই তাকে ছুটাছুটি করতে হয়েছে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে। কারণ ছোট্ট অর্ণবের শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি জটিল বোনম্যারো ক্যান্সার। যার উন্নত চিকিৎসা নেই বাংলাদেশে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই রোগের চিকিৎসা হলেও খরচ গিয়ে দাঁড়ায় কোটি টাকার উপরে। তাই গরিবের ঘরে কোটি টাকার রোগে চোখেমুখে শর্ষেফুল দেখছে শিশু অর্ণবের পরিবার। অর্ণবকে সুস্থ করে তুলতে নিজেদের সহায়-সম্বল সব উজার করেও কোনো কুলকিনারা পাচ্ছেন না।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের একটি গার্মেন্টে সামান্য বেতনে চাকরি করেন সুজন দাস। স্ত্রী ও তিন পুত্রকে নিয়ে ভাড়া থাকেন ফতুল্লার উত্তর মাসদাইর লতিফ ডাইংয়ের পাশে শহিদুল চেয়ারম্যানের বাড়ির ৬ তলার একটি ফ্ল্যাটে। স্ত্রী নিপা রানী দাস গৃহবধূ। বড় ছেলে নীরব দাস ইসদাইর রাবেয়া হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেজ ছেলে সৌরভ দাস ইসদাইর প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। ছোট ছেলে ১৪ মাস বয়সী অর্ণব দাস। স্ত্রী ও ৩ পুত্রকে নিয়ে টানাটানির সংসার। ঘরভাড়া ও স্কুলপড়ুয়া দুই পুত্রের লেখাপড়া এবং এক নবজাতকের খরচ চালাতে গিয়ে যেখানে হিমশিম খাচ্ছিলেন সেখানে গরিবের ঘরে যেন কোটিপতি রোগ বাসা বেঁধেছে ছোট শিশু অর্ণবের শরীরে।

৮ মাস আগে হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয় শিশু অর্ণব। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে ধরা পড়ে অর্ণব জটিল বোনম্যারো ক্যান্সারে আক্রান্ত। যে বয়সে পুরো পরিবার মাতিয়ে রাখার কথা সে বয়সেই জীবনযুদ্ধে লিপ্ত ছোট শিশু অর্ণব। তার ক্যান্সার চিকিৎসা ও কেমোথেরাপি বাবদ ইতিমধ্যে দরিদ্র অনেক টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে সে ঢাকাস্থ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) শিশু হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার বাবা-মা ভারতের চেন্নাইয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে ইচ্ছুক। তার ক্যান্সার চিকিৎসা, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি এবং বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট অপারেশন বাবদ প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। এছাড়াও সেখানে গিয়ে ৬ মাস থাকা-খাওয়া বাবদ খরচ গিয়ে দাঁড়াবে কোটি টাকার মতো। যা তার বাবা-মায়ের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়।

শিশুটির মা নিপা রানী দাস জানান, ৫ মাস বয়স পর্যন্ত অর্ণব সুস্থই ছিল। হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়। জ্বর না কমায় শহরের একটি ডায়াগনস্টিকে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরে শরীরে রক্তের পরিমাণ কম থাকায় চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। এরপর তাকে সাইনবোর্ডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে সেখান থেকে ঢাকার আরো একটি হাসপাতাল ঘুরে নেওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি) হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসার পরে তার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা চলছে। রক্তশূন্যতা দূরীকরণে তাকে অসংখ্যবার রক্ত দিতে হয়েছে। এখন চলছে কেমোথেরাপি। ক্যান্সার শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। তার স্বামী একটি গার্মেন্টে সামান্য বেতনে চাকরি করে। তার দুই ছেলের লেখাপড়ার খরচ ও বাসা ভাড়া দিয়ে ছোট শিশু অর্ণবের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ছোট ছেলেকে বাঁচাতে নিজের স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছেন। স্বজন ও স্বামীর সহকর্মীরা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। ইতিমধ্যে তারা ৬ লাখ টাকার উপরে খরচ করেছেন। চিকিৎসকরা কেমোথেরাপির মাধ্যমে অর্ণবকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অর্ণবের ক্যান্সার জটিল প্রকৃতির। কোটি লোকের মধ্যে একজনের এ ধরনের ক্যান্সার হয়। এর উন্নত চিকিৎসা ভারতের চেন্নাইতে রয়েছে। সেখানে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে খরচ ৭০ লাখ টাকার মতো। এছাড়াও থাকা-খাওয়াসহ আরো ৩০ লাখ টাকার মতো লাগবে। সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়াবে কোটি টাকার মতো। যা তাদের পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। ভারতে নেওয়া তো দূরের কথা এখন অর্থের অভাবে তার চিকিৎসা বন্ধের পথে। দারিদ্রতা চিকিৎসার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিপা রানী দাস জানান, কখনো কারো কাছে হাত পাতি নাই। কিন্তু আজকে আদরের বুকের ধনকে বাঁচাতে সকলের কাছে হাত পাতছি। যে বিপদে পড়ে সেই একমাত্র জানে। ছেলেকে বাঁচাতে প্রয়োজনে নিজের কিডনী বিক্রি করতে হলেও করবো। আমি আমার এই ফুটফুটে ছোট্ট বাচ্চাটাকে হারাতে চাই না। অর্ণব এর চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

অর্ণবের স্বজনরা জানান, তার বাবা গার্মেন্টে সামান্য বেতনে চাকরি করে। অর্ণবের চিকিৎসা করাতে গিয়ে ইতিমধ্যে অনেক অর্থ খরচ হয়েছে। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সহযোগিতার পাশাপাশি ঋণ করে চিকিৎসা চালালেও এখন একেবারে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাই শিশু অর্ণবকে বাঁচাতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সহযোগিতায় এগিয়ে দাঁড়ানোর জন্য আহ্বান জানান তারা।

সরকার ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় শিশু অর্ণব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে এই প্রত্যাশা সকলের। অর্ণবের চিকিৎসায় সহযোগিতা করতে চাইলে যোগাযোগ করতে পারেন:

মা নিপা রানী দাস -০১৬০০০৯১৮৯৫ (বিকাশ/নগদ)
ব্যাংক একাউন্ট :
নিপা রানী দাস
সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর ০২০০০২৫৫৫৫৬৯১
কোড নং-০৪-০৩২০২.১১২/২৫
অগ্রনী ব্যাংক পিএলসি, মীরজুমলা রোড শাখা, নারায়ণগঞ্জ।