যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চত্বরের একমাত্র শিশু পার্কটি এখন ব্যবহারের অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। এতে খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। খোদ উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে সরকারি অর্থায়নে করা পার্কের বেহাল দশা। স্থানীয়রা পার্কের বেহাল দশার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন সাইনবোর্ডেই সীমাবদ্ধ শিশুদের বিনোদন। দ্রুত পার্কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পার্কের ভেতরে দোলনা, স্লিপারসহ অন্য রাইডসগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এ ছাড়া পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনকারী বিভিন্ন ভাস্কর্যও ভেঙে গেছে। বর্তমানে পার্কের পুরো এলাকা ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। তাই এখানে শিশুদের খেলাধুলা করার মতো কোনো পরিবেশ নেই। উপজেলা ডাকবাংলোর উত্তর-দক্ষিণে উপজেলার আবাসিক এলাকায় ২০২২ সালে নির্মিত হয় এই পার্কটি।
পার্কটি সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদ চত্বরে হলোও আশপাশের শিশু কিশোররাও বৈকালিক অবকাশে এ পার্কে সময় কাটাত। পার্কে শিশুদের খেলাধুলার জন্য স্লিপার ও দোলনাসহ কয়েকটি রাইডস থাকলেও সবগুলোই অকেজো হয়ে আছে। পাশাপাশি শিশুদের আকর্ষণের জন্য বাঘ, সিংহ, জিরাফ, ময়ূর, হাতি, ক্যঙ্গারু ও হরিণসহ মোট ১০টি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। এগুলোর বেশিরভাগই ভেঙে গেছে।
ঘুরতে আসা শিশুদের জন্য কোনো ধরনের ছাউনি ও বসার বেঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়নি এ পার্কে। তাই রোদ বৃষ্টির সময় এখানে শিশুদের কোনো ধরনের সুরক্ষা নেই।
পার্কটি নির্মাণের পর কিছুদিন স্বাভাবিকভাবে চললেও অযত্ন অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণ না থাকার কারণে এটি এখন একটি পরিত্যক্ত বন জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সঠিক তত্ত্বাবধানের অভাবে বেশ কয়েকটি রাইড মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মাঝেমধ্যে কিছু অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে পার্কে এলেও সাপসহ অন্য পোকামাকড় ও মশার ভয়ে এখানে প্রবেশ করেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, উপজেলা পরিষদের অভ্যন্তরে ছোট্ট পরিসরের এ পার্কটি উপজেলায় কর্মরতদের শিশুসহ আশেপাশের এলাকার অনেক শিশুই এখানে খেলাধুলা করত। দিন দিন অযতœ অবহেলায় শিশু পার্কের বিভিন্ন রাইডগুলো নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অতি দ্রুত সময়ের ভেতর সংস্কার করে শিশুদের খেলাধুলার সরঞ্জামাদি সচল করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, সোনারগাঁও উপজেলা পরিষদের এ পার্কটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমি অবগত আছি। এটি সংস্কার করার জন্য ইতিমধ্যে জেলা পরিষদ বরাবর প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলে এটি সংস্কার করে শিশুদের ব্যবহার উপযোগী করা হবে।