ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট কানাডার 

ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশেষে ঘুচল কানাডার দীর্ঘদিনের খরা। একের পর এক হার আর পয়েন্টহীনতার বৃত্ত থেকে বেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম পয়েন্টের দেখা পেল উত্তর আমেরিকার এই স্বাগতিক দেশটি। টরন্টোর বিএমও ফিল্ড স্টেডিয়ামে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করেছে জেসি মার্শের দল। নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে খেলা ছয় ম্যাচের সবকটিতেই হারের মুখ দেখা কানাডিয়ানদের জন্য এই একটি পয়েন্ট যেন মহাকাব্যিক এক জয়ের সমান।

ঘরের মাঠে ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে কানাডা। ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই লিয়াম মিলারের লম্বা থ্রো এবং লুক ডি ফুগেরোলেসের ক্রসে প্রথম আক্রমণ শানায় তারা। তবে ম্যাচের দখল ও আক্রমণে স্বাগতিকরা এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের ২১ মিনিটে উল্টো গোল হজম করে বসে। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে সিয়াদ কোলাসিনাচের হেড পাসের পর গোললাইন থেকে সহজ হেডে বল জালে জড়ান বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচ। স্তব্ধ হয়ে পড়ে পুরো টরন্টো স্টেডিয়াম।

১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে গোল পরিশোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। ৩৩ মিনিটে তানি ওলুওয়াসেইয়ের ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার পর প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ডেরেক কর্নেলিয়াসের হেডও জালের ঠিকানা পায়নি। প্রথমার্ধে ৮টি শট নিয়েও নিখুঁত ফিনিশিংয়ের অভাবে সমতায় ফিরতে পারেনি স্বাগতিকরা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই পেনাল্টির জোরালো দাবি তোলে কানাডা, তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি। ৫৪ মিনিটে ম্যাচের অন্যতম সেরা সুযোগটি হাতছাড়া হয়, যখন স্টিফেন ইউস্তাকিওর পাস থেকে রিচি লারিয়ার নিশ্চিত গোল লাইনের ওপর থেকে প্রতিহত করেন বসনিয়ান ডিফেন্ডার কোলাসিনাচ। এর কিছুক্ষণ পর কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপোও দুর্দান্ত এক সেভে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন। 

স্বাগতিকদের একের পর এক আক্রমণে ব্যর্থ হয়ে যখন গ্যালারিতেও হতাশা নামছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন এক সুপার-সাব। ম্যাচের ৭৬ মিনিটে মাঠে নেমেছিলেন অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড সাইল লারিন। মাঠে নামার স্রেফ ২ মিনিটের মাঠে দলের হয়ে ইতিহাস গড়েন তিনি। ইসমাইল কোনোর তৈরি করা আক্রমণ থেকে প্রমিজ ডেভিডের চমৎকার ব্যাকহিল পাস পান লারিন। নিখুঁত ও শক্তিশালী শটে বসনিয়ার ডিফেন্ডার নিকোলা কাটিচের গায়ে লেগে বল জালে জড়ালে গ্যালারিতে উল্লাসের জোয়ারে ফেটে ওঠে। স্কোরলাইন দাঁড়ায় ১-১।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ও অতিরিক্ত সময়ে রিচি লারিয়া ও সাইল লারিন জয়ের জন্য মরিয়া চেষ্টা চালালেও বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের দুর্দান্ত ব্লকে ম্যাচটি সমতাতেই শেষ হয়। 

এর আগে ১৯৮৬ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নিলেও কোনো ম্যাচেই পয়েন্টের মুখ দেখেনি কানাডা। আগের দুই আসরে খেলা ছয় ম্যাচের সবকটিতেই হারের তিক্ত স্বাদ পেতে হয়েছিল তাদের। অবশেষে তাদের ঝুলিতে এলো পয়েন্ট। এদিকে ইতালিকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিয়ে মূল পর্বে আসা বসনিয়ার বিপক্ষে এই ড্র কেবল ম্যাচ বাঁচানোর গল্প নয়, বরং বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবলের এক ঐতিহাসিক পুনরুত্থান।