বাছাইপর্বে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার মতো পরাশক্তিদের হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে লড়াকু কিছু আভাসই দিচ্ছিল প্যারাগুয়ে। তবে নিজেদের ডেরায় লাতিন আমেরিকার দলটিকে পাত্তায় দিল না যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিপক্ষের জালে গুনে গুনে এক হালি গোল করলো বল। এতে ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয়ে বিশ্বকাপের এবারের আসরের শুরুটা দারুণভাবে রাঙিয়ে রাখল মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।
লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই ব্যাকফুটে চলে যায় প্যারাগুয়ে। সেটিও সরাসরি নিজ দলের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়ার ভুলে। ম্যাচের ৭ম মিনিটে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে বসেন তিনি। সেখান থেকে লিড নিয়ে প্রথমার্ধের শেষ দিকেই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রে ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনের ম্যাজিক। জোড়া গোল করে দলকে ম্যাচের অর্ধেই এনে দেন ৩-০ গোলের লিড। অফসাইডে একটি গোল বাতিল না হলে পেয়ে যেতেন বিশ্বকাপের এবারের আসরের প্রথম হ্যাট্রিকের দেখা।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭৩তম প্যারাগুয়ের মরিচিওর গোলটি স্রেফ কমিয়েছে ব্যবধান। সেখান থেমে ম্যাচের একদম শেষ দিকে যোগ করা সময়ে গোল করেন জিওভানি রেইনা। এতেই ৪-১ ব্যবধানে দাপুটে জয়ে মাঠ ছাড়ে আসরে সহ-আয়োজক দলটি। গোল ব্যবধানে বিশ্বকাপ ইতিহাস এটিই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় জয়।
শুরুতেই পিছিয়ে পড়ে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া চেষ্টা চালায় প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ১৪ মিনিটে উইঙ্গার হুলিও এনসিসো দূরপাল্লার এক জোরালো শটে ভাগ্য পরীক্ষার চেষ্টা করলেও বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
তবে এগিয়ে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশই বাড়াতে থাকে আক্রমণের ধাঁচ। ম্যাচের ২৮ মিনিটে বালোগুন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের ফাঁদে পড়ায় সেই গোলটি বাতিল ঘোষণা করেন রেফারি। তবে এর তিন মিনিতবাদেই এবার সফল বালোগুন। ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের নিখুঁত এক পাস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে ডান পায়ের দারুণ শটে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক কার্লোস গিলকে পরাস্ত করেন তিনি। এতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।
পরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে প্যারাগুয়ের রক্ষণকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে আরও একবার সবুজ গালিচায় উৎসব মাতান বালোগুন। মালিক টিলম্যানের নিখুঁত পাস ধরে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি উদযাপনের পাশাপাশি স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের পরিসংখ্যানেও ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্পষ্ট আধিপত্য; প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল রাখার পাশাপাশি আক্রমণের ফুলঝুরি ফুটিয়ে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে প্যারাগুয়ে। তবে সুবিধে করতে পারেনি সেভাবে। তবে ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে মাওরিচিওর গোলটি অবশ্য ম্যাচে ফেরার সেভাবে আশা জাগাতে পারেনি, কেবল ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করে। পরে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে চমৎকার এক ডান পায়ের বাঁকানো শটে প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দলের হয়ে হালি গোল পূর্ণ করেন রেইনা।
এর আগে বিশ্বকাপে একবারই দেখা হয় যুক্তরাষ্ট্র-প্যারাগুয়ের। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে সেই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল। সেখান থেকে ৯৬ বছর পর দ্বিতীয় দেখাতেও বাজিমাত মার্কিনদের। ৪-১ গোলে জিতে এবারও ব্যবধানটা তিন গোলেরই।