গ্যালারি ফাঁকা কেন? অদ্ভূত এক অজুহাত দিল ফিফা

২০২৬ বিশ্বকাপের মেক্সিকো পর্বের ম্যাচে গ্যালারির বহু আসন ফাঁকা থাকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে তুমুল সমালোচনা। তবে দর্শক খরা বা টিকিট বিক্রি না হওয়ার তত্ত্ব উড়িয়ে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা ফিফা এক অদ্ভুত ও চমকপ্রদ অজুহাত খাড়া করেছে। ফিফার দাবি, দর্শকরা তাদের জন্য নির্ধারিত আসনে না বসে স্টেডিয়ামের করিডোর বা কনকোর্সে দাঁড়িয়ে খেলা দেখছিলেন!

বৃহস্পতিবার মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন গ্যালারির মাঝের অংশসহ বেশ কিছু জায়গায় প্রচুর আসন স্পষ্ট ফাঁকা দেখা যায়। অথচ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ ওই ম্যাচের অফিসিয়াল দর্শক সংখ্যা ঘোষণা করা হয়েছিল ৪৪ হাজার ৯৮৫ জন যেখানে স্টেডিয়ামটির মোট ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ৬৬৪ জন।

ফিফার ব্যাখ্যা: টিকিট স্ক্যান বনাম ফাঁকা আসন

টিভি পর্দায় ও মাঠে দৃশ্যমান ফাঁকা আসন নিয়ে ফিফা শুক্রবার এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। সংস্থাটি জানায়, “অফিসিয়াল দর্শক সংখ্যা মূলত কতটি টিকিট গেটে স্ক্যান করা হয়েছে এবং স্টেডিয়ামের সীমানার ভেতরে কতজন দর্শক উপস্থিত আছেন তার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়; কোনো নির্দিষ্ট মুহূর্তে গ্যালারিতে কতটি আসন খালি দেখা যাচ্ছে তার ওপর ভিত্তি করে নয়।” 

ফিফা আরও যোগ করে, “গত রাতে (দক্ষিণ কোরিয়া-চেক প্রজাতন্ত্র ম্যাচ) গুয়াদালাহারার ম্যাচে দেখা গেছে, টিকিট কাটা অনেক সমর্থক পুরো ম্যাচ জুড়ে তাদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনে না বসে করিডোর বা কনকোর্সে দাঁড়িয়ে ছিলেন।” তবে মাঠের চিত্র অবশ্য বলছে, ম্যাচ চলাকালীন বড় সংখ্যক দর্শককে কনসেশন স্ট্যান্ড (খাবার ও স্যুভেনির বিক্রির দোকান) ও করিডোরগুলোতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল।

টরন্টোতেও একই চিত্র

শুধু মেক্সিকোতেই নয়, শুক্রবার কানাডার ঘরের মাঠে প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচটিতেও টরন্টো স্টেডিয়ামে একই চিত্র দেখা গেছে। ৪৩,০৩৬ আসন বিশিষ্ট এই স্টেডিয়ামটি চলতি বিশ্বকাপের সবচেয়ে ছোট ভেন্যু, যা ফিফার ন্যূনতম মানদণ্ড ছোঁয়ার জন্য অস্থায়ী আসন দিয়ে বড় করা হয়েছিল। সেখানেও অফিশিয়াল দর্শক সংখ্যা ৪৩,০০২ জন ঘোষণা করা হলেও লোয়ার বোল (মাঠের কাছাকাছি গ্যালারি) এবং অস্থায়ী আসনের একদম ওপরের কোণায় কিছু আসন খালি চোখে স্পষ্ট ফাঁকা দেখা গেছে। তবে টরন্টোতে একই সাথে বেসবলের হাইভোল্টেজ ম্যাচ (ব্লু জেস-নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিস) এবং কানাডিয়ান ওপেন গলফ টুর্নামেন্ট চলায় ক্রীড়াপ্রেমীদের মনোযোগ কিছুটা ভাগ হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।