চাচার মতো বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণ হলো ভাতিজার

নেদারল্যান্ডসের রক্ষণভাগের তরুণ তারকা ইয়ান পল ভ্যান হেকে যদি তার পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতে চান, তবে তাকে আগামী মাসের বিশ্বকাপ ফাইনাল পর্যন্ত যেতে হবে। আর এই যাত্রায় তার অনুপ্রেরণা হিসেবে আছেন তার আপন চাচা, যিনি একসময় ছিলেন তার কোচও।

ভ্যান হেকের চাচা ইয়ান পোর্টফ্লিট ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে ডাচদের হয়ে রক্ষণভাগে খেলেছিলেন। সেবার আয়োজক দেশ আর্জেন্টিনার কাছে অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে হেরে রানার্স-আপ হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। 

কাকতালীয়ভাবে, ১৯৭৮ সালে পোর্টফ্লিট যেভাবে ডাচ দলে জায়গা করে নিয়েছিলেন, আজ ৪৮ বছর পর তার ভাতিজা ভ্যান হেকেও ঠিক একই রকম পরিস্থিতির মুখোমুখি। ১৯৭৮ সালে বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল পোর্টফ্লিটের এবং কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই তাকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রথম পছন্দের লেফট-ব্যাক হুগো হোফেনক্যাম্প ইনজুরিতে পড়ায় ভাগ্য খুলে যায় তার।

চাচা পোর্টফ্লিট সেবার আর্জেন্টিনার মাটিতে ৬টি ম্যাচ খেলে নিজের বহুমুখী প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছিলেন। এবার ভাতিজা ভ্যান হেকেও মূল একাদশে সুযোগ পাচ্ছেন আরেক ডিফেন্ডার ইয়ুরিয়েন টিম্বার ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ায়।
পারিবারিক এই ফুটবলীয় ঐতিহ্যের বন্ধন কেবল রক্তের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চাচা পোর্টফ্লিট নেদারল্যান্ডসের বেশ কয়েকটি ক্লাবের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন, ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের সাউদাম্পটনের দায়িত্বে ছিলেন এবং যুব পর্যায়ে (অনূর্ধ্ব-১৭) নিজের ভাতিজা ভ্যান হেকেকে কোচিংও করিয়েছেন।

বর্তমানে ইংলিশ ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ অ্যালবিয়নে খেলা ভাতিজা সম্পর্কে গর্বিত চাচা বলেন, "তখনও তার মধ্যে যেকোনো সুযোগ লুফে নেওয়ার এক তীব্র জেদ ছিল।" "ইয়ান পল মানসিকভাবে ভীষণ শক্ত। ফুটবল মাঠ বা বাস্তব জীবন—কোথাও তাকে লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করা যায় না। সে যা অর্জন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়।"

রবিবার ডালাসে জাপানের বিরুদ্ধে গ্রুপ ‘এফ’-এর ম্যাচ দিয়ে নেদারল্যান্ডস তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। ম্যাচে অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইকের সাথে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে জুটি বাঁধবেন ভ্যান হেকে।

টিম্বারের ইনজুরিতে নিজের সুযোগ পাওয়া নিয়ে আবেগাপ্লুত ভ্যান হেকে সাংবাদিকদের বলেন, "এটি আমার স্বপ্ন ছিল, কিন্তু এটি তারও স্বপ্ন ছিল। তার স্বপ্নটা এভাবে ভেঙে যাওয়া সত্যিই অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এখানে আসতে পারাটা আমার জন্য এক বিশাল গর্বের অনুভূতি।"

প্রথম ম্যাচেই এশীয় পরাশক্তির প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়া নিয়ে কিছুটা সতর্ক ব্রাইটন ডিফেন্ডার। জাপান দল সম্পর্কে তিনি বলেন, "আমরা শুরুতেই একটি কঠিন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হচ্ছি। ওয়েম্বলিতে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারানো মোটেও সহজ কথা নয়। ইনজুরির কারণে আমার ব্রাইটন সতীর্থ কাওরু মিতোমা জাপান দল থেকে ছিটকে গেছে, যা দুঃখজনক। তবে মিতোমা ছাড়াও জাপান একটি অত্যন্ত শক্তিশালী দল।"

চাচা পোর্টফ্লিটের কোচিংয়ে বেড়ে ওঠা ভ্যান হেকে কি পারবেন ১৯৭৮ সালের সেই অধরা স্বপ্নকে এবার বাস্তবে রূপ দিতে? উত্তর দেবে সময়, তবে আপাতত চাচার দেখানো পথেই হেঁটে বিশ্বকাপের মঞ্চ কাঁপাতে প্রস্তুত এই ডাচ ডিফেন্ডার।