একাত্তরে গোলাহাটে গণহত্যার স্বীকৃতি দাবি  

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নীলফামারীর সৈয়দপুরের গোলাহাটে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যার ৫৫ বছর পূর্তিতে এক স্মরণ সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকাল ৪টায় রাজধানীর নিমতলীতে অবস্থিত এশিয়াটিক সোসাইটি মিলনায়তনে এই বিশেষ স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়। ‘জেনোসাইড জাস্টিস অ্যান্ড রিসার্চ ফোরাম’এবং ‘বাংলা ভুবন ঐকতান’-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এই অনুষ্ঠানটি। শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং দেশাত্মবোধক আবহের মধ্য দিয়ে শনিবার সন্ধ্যার দিকে শুরু হয় এই স্মরণ সভা।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ১৯৭১ সালের সেই ভয়াবহ দিনটির স্মৃতিচারণ করেন এবং আন্তর্জাতিকভাবে এই গণহত্যার স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেন। 

আলোচনা সভায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক জেবুন্নেছা আদিত্যপুর গণহত্যা, কালিগঞ্জ গণহত্যা এবং ছাতনী গণহত্যা নিয়েও বলেছেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুরের শহীদ পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘যে দেশটার মুক্তিযুদ্ধ না হলে জন্ম হতো না। সেই দেশের জন্ম নিয়ে আমরা তেমন ঘটা করে কোনো আয়োজন করি না। আমার দেশ মুক্তিযোদ্ধা তৈরির হ্যাচারি। কিন্তু আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবী লেখছি যেখানে অন্যান্য শহীদদের ক্ষেত্রে জাত তৈরি করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকেও খন্ড বিখন্ড করা হয়েছিলো। আমার এখন সঙ্কাও হয়, আমি জানি না এদেশ আদৌ মুক্তিযুদ্ধের দেশ হবে কিনা?’

অনুষ্ঠানের সভাপ্রধান ফউজুল আজিম বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় আমাদের দেশের যেসব স্থানে বিহারী অধ্যুষিত ছিলো সেই সব স্থানেই অধিক হারে গণহত্যা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশ এখনো এই বিষয়ে কোনো ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি।’ তিনি আরও বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে আমরা বাঙালীরা কখনোই আগে আক্রমণ করিনি। বিহারী এবং পাকিস্তানিই সর্বপ্রথম আমাদের আক্রমণ করেছে এবং পরে আমরা সেই আক্রমণ প্রতিহত করেছি।’ 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক ও গবেষকবৃন্দ বলেছেন, নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে গোলাহাটের মতো নির্মম গণহত্যার ঘটনাগুলোকে আরও বেশি নথিবদ্ধ ও প্রচার করা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে এই ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমেই কেবল সত্য সংরক্ষণ সম্ভব।