বিকেলটা ছিল মেঘাচ্ছন্ন। বৃষ্টি নামবে নামবে। জ্যৈষ্ঠের মেঘগম্ভীর বিকেলে ঠিক আজ শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের লিফট বেয়ে দেশ রূপান্তর কার্যালয়ে এসে হাজির হলেন পত্রিকাটির প্রকাশক ও রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল। এসেই ঢুকলেন সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির কক্ষে। আগে থেকেই সম্পাদকের কক্ষে হাজির ছিলেন রূপায়ণ গ্রুপের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল কালাম আজাদ ও মো. আব্দুল গাফফার। ছিলেন দেশ রূপান্তরের বিভাগীয় সম্পাদকরাও।
মুস্তাফিজ শফি প্রকাশক মাহির আলী খাঁন রাতুল আর দুই উপদেষ্টাকে সঙ্গে নিয়ে এলেন অভ্যর্থনা কক্ষের সামনে নির্মিত বিশ্বকাপ ফুটবলের বাহির মহলের প্রতীকী স্টুডিওতে। এখানে বক্তৃতার আয়োজন নেই। শুধুই ফিতা কাটা। দেশ রূপান্তরের কর্মীদের উপস্থিতিতে ফিতা কেটে মাহির আলী খাঁন রাতুল ঢুকলেন স্টুডিওতে। আগেই ছিল স্টুডিওটা। তবে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষে এই স্টুডিওটিকে নতুন করে সাজানো হয়েছে। আয়তনে আগের স্টুডিওর থেকে বড়। ভেতরের আবহে আনা হয়েছে বৈচিত্র্যতা।
অনাড়ম্বর এ অনুষ্ঠানে দেশ রূপান্তরের নির্বাহী সম্পাদক সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী, রূপায়ণ গ্রুপের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর হাবিবুর রহমান পলাশ, নগর সম্পাদক সরোয়ার আলম, অতিরিক্ত বার্তা সম্পাদক আলী ইমাম সুমন, ক্রীড়া সম্পাদক সাইফুর রহমান খোকন, আলোকচিত্র সম্পাদক সাহাদাত পারভেজ, অনলাইন সম্পাদক একেএম মঞ্জুরুল হক, মার্কেটিংয়ের ডিজিএম মিজানুর রহমান, সার্কুলেশন প্রধান আবদুল হাকিম প্রমুখ।
স্টুডিওটির উদ্বোধন উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত সাবেক ফুটবলার মো. আবদুল গাফফারের উপস্থাপনায় বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত টক শো অনুষ্ঠিত হয়। টক শোর শুরুতে মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, বিশ্বকাপের এ রকম একটা মুহূর্তে স্টুডিও চালু করে সবার কাছে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। আশা করি, এর মাধ্যমে দেশ রূপান্তরের পাঠকরা ডিজিটালি আরও আপডেট থাকবেন। কোন দল প্রিয়-সঞ্চালকের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহির আলী খাঁন রাতুল বলেন, অন্যদের মতো আমার প্রিয় দল একটা না, একাধিক। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স ভালো খেলে। অনেক বছর ধরে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ হয় না। ফুটবলের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে যেন এক করতে পারি-এটিই আমার প্রত্যাশা।
মুস্তাফিজ শফি বলেন, ফুটবলের যে অন্তর্নিহিত তাৎপর্য, সেটাই আমরা পাঠকের কাছে তুলে ধরতে চাই। পাশাপাশি এই স্টুডিওর মাধ্যমে সারা বছর ধরে নানা কার্যক্রম তুলে ধরব। আমরা আমাদের পত্রিকায় শিরোনাম করেছি ‘এক বল এক দেশ এক মহাকাব্য।’ এই মহাকাব্য আসলে আনন্দ বেদনার মহাকাব্য। বিশ্বকাপে ৪৮টি দেশ খেলছে। এখানে বাংলাদেশ খেলছে না। কিন্তু আমরা চাই বিশ্বকাপের সঙ্গে থাকতে। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে থেকে মানুষ যেন মাঠে বসে খেলার আনন্দ উপভোগ করতে পারে-স্টুডিও, পত্রিকা ও অনলাইনের মাধ্যমে সেই আমেজটা আমরা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, নতুন এই স্টুডিওর ভেতর একটি মাঠ আছে, ফুটবল আছে, ট্রফি আছে, গোলপোস্ট আছে, দেওয়ালে প্রিয় ফুটবলাররা আছে, ৪৮ দেশের পতাকা আছে-সব মিলে দেশ রূপান্তরের এই আয়োজন এক অনন্য অনুভূতি দিচ্ছে।