জনরায় না মানা সরকার জনগণের হতে পারে না

গণভোটের রায় মেনে নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, যে সরকার জনরায় মানে না, সে সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না। জনগণ যখন দেখবে ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে আপনারা অপমান ও অশ্রদ্ধা করছেন, তখন তারা বসে বসে আঙুল চুষবে না। আমাদের পরিষ্কার কথা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি না করেন তাহলে যেভাবে ’৯৬ সালে নিজেরাই শেষ পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকারের বিল এনে পাস করতে বাধ্য হয়েছিলেন, এই রেফারেন্ডামও বাস্তবায়ন করতে আপনারা বাধ্য হবেন।

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা এ কথা বলেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক। চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গতকাল বিকাল ৩টায় জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, এবি পার্টির  সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবীবুল্লাহ মিয়াজি, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা শামশুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী এমপি, চট্টগ্রাম মহানগর আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সরকারের উদ্দেশ্যে জামায়াতের আমির বলেন, ভালোয় ভালোয় গণরায় মেনে নিন, জনগণকে রাজপথে ঠেলে দেবেন না। আমরা শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় থাকতে চাই। আমাদের সুড়সুড়ি দেবেন না। হুমকি-ধমকি দেবেন না। মাঝে মাঝে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়, জেলের ভয় দেখানো হয়। ফাঁসিকে যারা তুচ্ছ মনে করে তাদের জেলের ভয় দেখাবেন না। দেশ ও জনগণের জন্য ফাঁসি বরণ করতে হলেও করব, জীবন দিতেও প্রস্তুত, একবার নয় বারবার জেলে যেতেও প্রস্তুত।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একদল ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে গিয়ে বনে-জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে। খাল-বিল, নদী-নালা দিয়ে পালিয়ে গিয়েছে। আপনারা কোনদিকে যাবেন। আমরা চাই না আপনাদের এই পরিণতি হোক। আমরা চাই না একটার পর একটা গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ এবং জনগণের ক্ষতি আপনারা করুন। পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি, আমরা দীর্ঘকাল বসে বসে আপনাদের এ সুযোগ দেব না। এর মধ্যে যদি পরিবর্তন হয়ে যান আপনাদের অভিনন্দন জানাব। অন্যথায় আপনাদের পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর দাবি প্রত্যাখ্যান করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে এসে বলেছেন, এই বাজেটে মাদক এবং ধূমপান জাতীয় দ্রব্যের ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে বলে বিরোধী দল বাজেটের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। এ কথা মিথ্যা ও ভুয়া। বিরোধী দল বাজেটে প্রতিক্রিয়া জানাবে খুবই স্বাভাবিক, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। এতে রাগ করার কী আছে। অল্পতে ধৈর্য হারালে ১৮ কোটি মানুষের দায়িত্ব পালন করবেন কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, আপনি বিভিন্ন ধরনের লোক দ্বারা পরিবেষ্টিত। তাদের সম্বন্ধে আপনি অবগত হোন। অন্য দেশের দালাল বাংলাদেশে যারা আছে তাদের নিশ্চিহ্ন করেন। ইঁদুর তো আমার ঘরে যে ইঁদুররা সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার জন্য দিল্লি ভিজিট করেছে। ব্রিটিশের আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়েছিল। পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও স্বাধীনতার আন্দোলন এখান থেকে শুরু হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধেও যদি প্রয়োজন হয় এখান থেকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হবে।

কর্নেল অলি আহমদ আরও বলেন, আপনাকে কঠিন হতে হবে। জি হুজুর করে সরকার চলে না। আপনার জায়গায় অন্য কেউ প্রক্সি দেবে এটাও ঠিক না। আপনাকেই বলতে হবে ‘আই অ্যাম দ্য প্রাইম মিনিস্টার’ এবং আমিই কথা বলব। নিজেকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। আমরা আপনার বিরুদ্ধে নই। কিন্তু আপনার সঙ্গে যারা বিদেশি দালাল আছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। আপনি নতুনভাবে দেশপ্রেমিক লোকজনকে নিয়ে দেশ পরিচালনা করুন।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু যদি মনে করে বরিশাল থেকে গিয়ে কলকাতায় বড় মাস্তান হয়ে গেছে, তার চেয়েও বড় মাস্তান বাংলাদেশে আছে। বাংলাদেশের লোক রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে। ভারতের স্বাধীনতার জন্য তোমাদের কোনো লোক এগিয়ে যায়নি। মুসলমানরাই এগিয়ে গিয়েছিল। তোমাদের স্বাধীনতার জন্য তোমাদের কোনো অবদান নেই।

ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চান জামায়াত আমির

‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বলতে ঢাকায় নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী কী বুঝিয়েছেন এই বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘ভারত যেমন একটি স্বাধীন দেশ, বাংলাদেশও তেমনি একটি স্বাধীন দেশ। তার এ বক্তব্য স্পষ্ট না হলে জনমনে অবশ্যই বিভ্রান্তি তৈরি হবে। আমরা সরকারের কাছে এ বিষয়টির সুরাহা চাই। যদি তিনি আক্ষরিক অর্থে এ ধরনের কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে অবশ্যই তা নিন্দনীয়। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া দরকার।’