সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে শিশুর কোমল মন সহজেই ভালো কাজের দিকে ঝুঁকে পড়ে। তাদের কোমল হৃদয়ে যে শিক্ষা প্রথমে স্থান পায়, সেটিই ধীরে ধীরে চরিত্রের অংশ হয়ে ওঠে। তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে ভালো কাজের অভ্যাস, মানুষের প্রতি মমত্ববোধ এবং দায়িত্বশীলতার চর্চা গড়ে তোলা জরুরি। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, সামান্য ভালো কাজও মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে এবং আখেরাতে কল্যাণের কারণ হয়। শিশুদের সেই পথে অভ্যস্ত করে তোলাই অভিভাবকদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা : নিজের শোয়ার ঘর, বাড়ি, স্কুল ও চলাচলের রাস্তা পরিষ্কার রাখার গুরুত্ব শিশুকে শেখাতে হবে। যেন সে নিজে যেখানে-সেখানে চিপস, চকোলেট বা অন্য কোনো খাবারের প্যাকেট অথবা অন্য কোনো ময়লা না ফেলে। আর কেউ ফেললে সে যেন তা তুলে নির্ধারিত স্থানে ফেলে দেয়। পরিবেশ সুন্দর রাখার প্রচেষ্টা ইসলামের দৃষ্টিতে সদকাস্বরূপ। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা একটি সদকা।’ (সুনানে আবু দাউদ)
প্রতিবেশীর প্রতি সদ্ব্যবহার : শিশুদের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের বাড়িতে উপহার পাঠানো, তাদের ভালো-মন্দের খোঁজ নিতে পাঠানো উচিত। এতে সে সামাজিক হবে। প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করার মাধ্যমে সে সওয়াব লাভ করতে পারবে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পেট পুরে খায় অথচ তার পাশের প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে।’ (আদাবুল মুফরাদ)
উপকারীর জন্য দোয়া করা : কেউ কোনো উপহার দিলে, উপকার করলে বা সাহায্য করলে তার জন্য দোয়া করেও শিশুরা সওয়াবের অধিকারী হতে পারে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে তোমাদের জন্য কোনো ভালো কাজ করে তাকে প্রতিদান দাও। যদি প্রতিদান দেওয়ার মতো কিছু না পাও, তবে তার জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত দোয়া করো যতক্ষণ না দোয়া তার ভালো কাজের সমপরিমাণ হয়।’ (সুনানে আবু দাউদ) উপকারীর জন্য দোয়া করার সহজ পদ্ধতি হলো ‘জাঝাকুমুল্লাহু খায়ের’ (আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন) বলা।
প্রাণী ও গাছের প্রতি দয়া : গৃহপালিত প্রাণী ও বৃক্ষ-তরুলতার প্রতি দয়া করেও শিশুরা সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। কেননা হাদিসে প্রাণীর প্রতি সদয় আচরণ করতে বলা হয়েছে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যদি কোনো মুসলিম কোনো গাছ রোপণ করে অথবা ক্ষেতে ফসল বোনে আর তা থেকে কোনো পোকামাকড় কিংবা মানুষ বা চতুষ্পদ প্রাণী খায়, তাহলে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হবে।’ (সহিহ বুখারি)
হাসিমুখে কথা বলা : পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন ও সহপাঠীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা, তাদের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেও শিশুরা সদকার সওয়াব অর্জন করতে পারে। রাসুলুল্লাহ বলেন, ‘তোমার ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করাও একটি সদকা।’ (সুনানে তিরমিজি)
লেখক : ইসলামি গবেষক