রক্তদান জীবন বাঁচায়

একজন সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান সহজ ও নিরাপদ প্রক্রিয়া, কিন্তু একজন রোগীর জন্য এটি হতে পারে জীবন-মৃত্যুর প্রশ্ন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, ক্যানসার রোগী, থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত শিশু, অস্ত্রোপচার কিংবা প্রসবকালীন জটিলতায় থাকা মায়েদের চিকিৎসায় প্রায়ই রক্তের প্রয়োজন হয়। অথচ বাংলাদেশে এখনো রক্তের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম।

রক্তদানের গুরুত্ব বোঝাতে প্রায়ই উল্লেখ করা হয় অস্ট্রেলিয়ার জেমস হ্যারিসনের নাম। তার রক্তের প্লাজমায় থাকা একটি বিরল অ্যান্টিবডির কারণে প্রায় ২০ লাখ নবজাতকের জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছিল। নিয়মিত ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। চিকিৎসকদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী সুস্থ নারী-পুরুষ নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিতে পারেন। সাধারণত প্রতি তিন মাস পর একজন ব্যক্তি রক্তদান করতে সক্ষম হন। প্রতিবার প্রায় ৪৫০ মিলিলিটার রক্ত নেওয়া হয়, যা শরীর খুব দ্রুত পূরণ করে নেয়। ফলে সুস্থ মানুষের জন্য রক্তদান নিরাপদ।

রক্তদানের মাধ্যমে শুধু অন্যের জীবনই বাঁচে না, রক্তদাতাও কিছু স্বাস্থ্যগত সুবিধা পেতে পারেন। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তবাহিত রোগ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নতুন রক্তকণিকা তৈরির প্রক্রিয়া সক্রিয় হওয়া এর মধ্যে অন্যতম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতি বছর ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদাতা দিবস পালন করে স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য। মনে রাখতে হবে, এক ব্যাগ রক্তের জন্য কারও জীবন থেমে থাকতে পারে। তাই সামর্থ্য থাকলে নিয়মিত রক্তদান হতে পারে মানবতার সবচেয়ে মূল্যবান উপহার।