“তারা (তুরস্ক) জয়ের আশা করছে, এবং বেশিরভাগ মানুষও সেটাই ভাবছে। আমরা যা করতে পারি তা হলো, তাদের এই উৎসবটা মাটি করে দেওয়া (স্পয়েল দ্য পার্টি)।”
তুরস্কের বিপক্ষে বিশ্বকাপের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার আগে এমন বার্তাই দিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার কোচ টনি পোপোভিচ। এর ঘণ্টা কয়েক বাদেই ঠিক একই কাজ করে দেখাল তার শিষ্যরা। গুলের-ইলদিজদের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়ে আসরে শুভসূচনা করলো 'সকারুজ'রা।
২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়ার পর দীর্ঘ দুই যুগ ধরে বিশ্বমঞ্চে অনুপস্থিত তুরস্ক আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরল মূল আসরে। সেখানে লম্বা সময় পর বিশ্বকাপ ফেরাটা স্বাভাবিকভাবেই রাঙিয়ে রাখতে চেয়েছিল তুরস্ক। তবে সেখানেই বাগড়া দিল টনি পোপোভিচের দল।
ভ্যাঙ্কুবারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে তরুণ ফরোয়ার্ড নেস্তরি ইরানকুন্ডার গোলে লিড নেয় অস্ট্রেলিয়া। পরে দ্বিতীয়ার্ধে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনর মেটকাফে। বল দখল আর শটের পরিসংখ্যানে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও স্কোরবোর্ডে কোনো প্রভাবই রাখতে পারেনি তুরস্ক। ৭২ শতাংশ বল দখল ছাড়াও ম্যাচে মোট ৩০টি শট নিয়েছে তারা, যেখানে লক্ষ্যেই ছিল ৮টা।
এদিকে মাত্র ২০ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে গোলের দেখা পেলেন ইরানকুন্ডা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ওকন-এংস্টলার লং বল ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দারুণ ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। এই গোলের পর প্রথমার্ধে ব্যবধান বাড়াতে অস্ট্রেলিয়া এবং সমতায় ফিরতে তুরস্ক মরিয়া চেষ্টা চালালেও প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর থেকে একের পর এক আক্রমণে ম্যাচের ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল ভিনচেনজো মন্তেলার দলটি। তবে সেখানে সকারুজদের কঠিন রক্ষণভাব ও গোলরক্ষক প্যাট্রিক বিচের দুর্দান্ত পারফর্মে জালের দেখা পায়নি তুরস্ক। তাদের আক্রমণের ফুলঝুরি ছাপিয়ে ৭৫ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে গোল করে বসেন মেটকাফে আর গ্যালারিতে উল্লাসে মেতে ওঠে সকারুজদের সমর্থকরা। শেষ পর্যন্ত তুরস্ক আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে না পারায় ২-০ ব্যবধানে দারুণ জয়ে মাঠ ছাড়ে অস্ট্রেলিয়া।