চট্টগ্রামের রাউজানে পাহাড়তলী ইউনিয়নের ব্যস্ততম চৌমুহনী বাজারে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে (৪৫) গুলি করে হত্যার মিশনে অংশ নিয়েছিল ছয় থেকে সাতজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। এদের মধ্যে তিনজনের হাতে ছিল পিস্তল ও দুজনের হাতে ছিল শটগান। বাজারে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের এমন দৃশ্য ধরা পড়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে এই হত্যার ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের ধারণা, রাজনৈতিক বিরোধ অথবা বালু ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকে মাসুদুলকে খুন করা হয়েছে। মামলা করতে নিহত মাসুদুলের পরিবারকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। নিহত মাসুদুলের মরদেহ রবিবার (১৪ জুন) দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের করা হয়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসুদ হত্যায় অংশ নেওয়া তিন থেকে চারজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা সবাই রাউজানের বাসিন্দা। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে খুনিদের দলীয় পরিচয় আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। অস্ত্রধারী খুনিরা বেতাগীর দিক থেকে এসে রাউজানের কদলপুরের পাহাড়ি পথ দিয়ে পালিয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলের একাধিক সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে পাহাড়তলী ইউনিয়নের চৌমুহনী বাজারে আসেন সন্ত্রাসীরা। এরপর একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরীকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলি ছোড়েন। সঙ্গে সঙ্গে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন পার্শ্ববর্তী উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এরপর ফাঁকা গুলি ছুড়ে অটোরিকশা করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তারা।
ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের একজনের মুখে ছিল কালো মুখোশ। অন্য ব্যক্তিদের চেহারা স্পষ্ট। তাদের মধ্যে তিনজনের হাতে পিস্তল এবং দুজনের হাতে শটগান দেখা যায়। ফাঁকা গুলি ছোড়ার সময় সন্ত্রাসীদের কয়েকজন চিৎকার করে বলছিলেন কেউ যাতে কাছে না আসে, দোকান বন্ধ করে চলে যান।
নিহত মাসুদুল রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে ছিলেন। রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরী তার বড় ভাই। মাসুদুল পরবর্তী নির্বাচনে মাসুদুল ইউপি চেয়ারম্যান পদে লড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
পরিবার জানায়, বেতাগী এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চৌমুহনী বাজারে আসেন মাসুদুল। এ সময় সন্ত্রাসীদের বহনকারী আরেকটি অটোরিকশা মাসুদুলকে অনুসরণ করে চৌমুহনী বাজারে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মাসুদুল অটোরিকশা থেকে নেমে বাজারের একটি ওষুধের দোকানের সামনে দাঁড়ান। এরপর অপর অটোরিকশা থেকে নেমে সন্ত্রাসীরা মাসুদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীদের তিনজন পিস্তল থেকে ফাঁকা গুলি ছোড়েন। আরও দুজনকে শটগান থেকে ফাঁকা গুলি ছুড়ে লোকজনকে সরিয়ে দিতে দেখা যায়। গুলি ছুড়তে ছুড়তেই অটোরিকশায় করে চলে যান তারা।
চৌমুহনী বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, প্রকাশ্যে দিবালোকে এতো গোলাগুলি করে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড আগে দেখিনি।
গত এপ্রিল মাসের শেষের দিকে একই কায়দায় গুলি করে হত্যা করা হয় মুহাম্মদ নাসির নামে এক যুবদলকর্মীকে।
পুলিশ জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাউজানে ২৫টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৮টি হত্যাকাণ্ড হয়েছে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে। একই সময়ে শতাধিক গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ।