চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদন্ডসহ ৩০ আসামিকে সাজা দেওয়ার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ৮০৯ পৃষ্ঠার এ রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয় বলে গতকাল রবিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।
আবু সাঈদ ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আওয়ামী লীগবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন। ঘটনার দিন দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া আবু সাঈদের ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার মৃত্যুতে ছাত্র-জনতার আন্দোলন ভিন্নমাত্রা পায় যা পরে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। গত ২ এপ্রিল বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন বিচারকের ট্রাইব্যুনাল রায়ে পুলিশের দুজনকে প্রাণদন্ড ও তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেয়। ৩০ আসামির মধ্যে ২৫ জনকে দেওয়া হয় বিভিন্ন মেয়াদের সাজা। রায়ে পুলিশের ৮ জন, বেরোবির তখনকার উপাচার্য (ভিসি) হাসিবুর রশীদসহ ৪ জন শিক্ষক, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৯ জন নেতা, ১ জন চিকিৎসক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ জন কর্মচারী সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। এ ছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের আরও তিনজন হলেন সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। এ তিনজন পলাতক আছেন।
রায়ে বেরোবির সাবেক ভিসি (উপাচার্য) মো. হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেয় ট্রাইব্যুনাল। তিনি মামলার শুরু থেকে পলাতক থাকলেও গত ১৬ মে গ্রেপ্তার হন। এ ছাড়া কারাগারে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান এবং লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। এ দুজন পলাতক।
একই রায়ে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে ১০ বছর, আরএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেনকে পাঁচ বছর এবং সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদ- দেওয়া হয়েছে। তারা তিনজনই পলাতক। এ ছাড়া এই মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনকে (চন্দন) পাঁচ বছর সশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। তিনিও পলাতক।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার প্রকাশিত রায়ের অনুলিপি আমরা হাতে পেয়েছি। তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।’
আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ৩০ জুন আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ২৮ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্য ও আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। ২৭ জানুয়ারি মামলার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।