চুক্তি ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যের ‘অভিভাবক’ হবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়েই জানিয়েছে, তারা লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান 'তাৎক্ষণিক ও স্থায়ীভাবে' বন্ধ করতে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে এই চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, কারণ আলোচনায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইরান যদি পারমাণবিক চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক হামলা শুরু করতে পারে অথবা 'মধ্যপ্রাচ্যের অভিভাবক' হিসেবে ভূমিকা নিতে পারে, যার বিনিময়ে আঞ্চলিক রাজস্বের ২০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্র পাবে।

এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিমান হামলা চালিয়ে ইরান শান্তি চুক্তি প্রায় 'ভেস্তে দিয়েছিলেন' এবং এতে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতা বিলম্বিত হয়েছে।

ট্রাম্প নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে 'খুবই কঠিন ব্যক্তি' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'তার আমাদের কাছে কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। কারণ ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তাহলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।' 
 
সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌপথ চালু, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ এবং সামরিক উত্তেজনা হ্রাসের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল এই সমঝোতা মেনে নিতে নাও পারে, কারণ আলোচনায় দেশটিকে রাখা হয়নি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণেও ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে অবস্থান কঠোর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।