একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা, পুরুষের এই সমস্যাকে অবহেলা নয়

অনেক পুরুষের কাছেই ইরেকটাইল ডিসফাংশন বা যৌন মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় উত্থান ধরে রাখতে না পারা একটি বিব্রতকর বিষয়। ফলে এ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা খুব কমই হয়। অনেকেই এটিকে শুধুমাত্র যৌন সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, এটি শরীরের আরও বড় কোনো স্বাস্থ্য সমস্যার আগাম সতর্কবার্তাও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশন অনেক সময় হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস এমনকি ডিমেনশিয়ার মতো রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে দেখা দিতে পারে। তাই এই সমস্যাকে অবহেলা না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

কেন ইরেকটাইল ডিসফাংশন হয়?

পুরুষাঙ্গে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে উত্থান ঘটে। যৌন উত্তেজনার সময় মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পেয়ে রক্তনালিগুলো প্রসারিত হয় এবং বেশি রক্ত পুরুষাঙ্গে প্রবেশ করে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো বাধা সৃষ্টি হলে উত্থানজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চাপও এর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত স্ট্রেস শরীরে অ্যাড্রেনালিন ও কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা রক্তনালিকে সংকুচিত করে। একই সঙ্গে এটি টেস্টোস্টেরন হরমোনের উৎপাদনেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে যৌন আগ্রহ কমে যেতে পারে এবং উত্থান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

হৃদরোগের আগাম সংকেত হতে পারে

গবেষকরা বলছেন, ইরেকটাইল ডিসফাংশন প্রায়ই রক্তনালির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বিশেষ করে অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস নামের একটি অবস্থায় রক্তনালি শক্ত ও সংকুচিত হয়ে যায়। এর ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পুরুষাঙ্গের রক্তনালিগুলো শরীরের সবচেয়ে সরু রক্তনালিগুলোর মধ্যে অন্যতম। তাই রক্তপ্রবাহে সমস্যা শুরু হলে এর প্রভাব সবার আগে এখানেই দেখা দিতে পারে।

একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন রয়েছে তাদের মধ্যে করোনারি হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি ৫৯ শতাংশ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো উত্থান অনেক সময় সুস্থ রক্তনালির একটি ইঙ্গিত।

ডিমেনশিয়ার সঙ্গেও থাকতে পারে সম্পর্ক

কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ইরেকটাইল ডিসফাংশন এবং ডিমেনশিয়ার মধ্যে সম্পর্ক থাকতে পারে। তাইওয়ানে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, যাদের ইরেকটাইল ডিসফাংশন ছিল তাদের মধ্যে পরবর্তী কয়েক বছরে ডিমেনশিয়া হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল।


বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মস্তিষ্ক এবং পুরুষাঙ্গ উভয়ই সুস্থ রক্তপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। তাই রক্তনালির সমস্যা দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

ডায়াবেটিস এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালি ও স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে পুরুষাঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে যায় এবং উত্থানজনিত সমস্যা দেখা দেয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের ইরেকটাইল ডিসফাংশনে ভোগার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি।

এ ছাড়া ডায়াবেটিস ও ইরেকটাইল ডিসফাংশন একসঙ্গে থাকলে স্নায়ু ক্ষতি, চোখের জটিলতা এবং ক্ষত শুকাতে দেরি হওয়ার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কেন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?

অনেক পুরুষ লজ্জা বা অস্বস্তির কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরেকটাইল ডিসফাংশন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।

এর মাধ্যমে শুধু যৌন সমস্যার সমাধানই নয়, বরং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো লুকিয়ে থাকা রোগের ঝুঁকিও শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।

বর্তমানে সিলডেনাফিলের মতো ওষুধ ইরেকটাইল ডিসফাংশনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান পরিহার করাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরেকটাইল ডিসফাংশনকে শুধুমাত্র যৌন সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে চলতে থাকা গুরুতর রোগের একটি প্রাথমিক সংকেত।

তাই এই সমস্যা দেখা দিলে তা লুকিয়ে না রেখে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত। কারণ, দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত ও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। েসূত্র: বিবিসি