অভিষেকেই স্পেনকে রুখে দিল কেপ ভার্দে

মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার এক ছোট্ট দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দে। অন্যদিকে ইউরোপসেরা এবং ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তারকাখচিত স্পেন। শক্তির বিচারে দুদলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। কিন্তু ফুটবল মাঠে যে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করল ২০২৬ বিশ্বকাপের এই গ্রুপ ‘এইচ’-এর উদ্বোধনী ম্যাচ।  প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলতে নেমেই পরাশক্তি স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে রুখে দিয়ে চলতি আসরের সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটাল নবাগত কেপ ভার্দে।

আটলান্টার স্টেডিয়ামে গতকাল সোমবারের এই ম্যাচের মূল নায়ক ছিলেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনহা। স্পেনের বিশ্বখ্যাত সব ফরোয়ার্ডকে একের পর এক আক্রমণ একাই নস্যাৎ করে দিয়ে ম্যাচের সেরা তারকা বনে যান তিনি।

ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের অধীনে নিয়ে আক্রমণ শানাতে থাকেন স্প্যানিশরা। তবে বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসের একটি শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে গোলবঞ্চিত হয় স্পেন। এরপর ফিরতি বলে মিকেল ওয়ারজাবালের দুর্দান্ত শট এবং পরে পেদ্রির আরেকটি নিশ্চিত গোলের সুযোগ অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন ভোজিনহা। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে আরও একটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এ অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।

ম্যাচের ডেডলক ভাঙতে দ্বিতীয়ার্ধে স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে মাঠে নামান বর্তমান ফুটবলের অন্যতম বড় বিস্ময় তরুণ উইঙ্গার লামিন ইয়ামালকে। কিন্তু কেপ ভার্দের জমাট ও লড়াকু ডিফেন্সের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে স্পেনের সব পরিকল্পনা।

ম্যাচের শেষ দিকে তো আরও বড় অঘটন ঘটে যেতে পারত! কাউন্টার অ্যাটাক থেকে কেপ ভার্দের ডিনে বোর্গেস এক দারুণ হেড নিয়েছিলেন। তবে স্পেনের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক উনাই সিমোন সেই যাত্রায় দলকে বাঁচিয়ে দিলে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে শেষ হয়।

এই ড্রয়ের ফলে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এটি নিঃসন্দেহে কেপ ভার্দের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন হিসেবে লেখা থাকবে। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট হারিয়ে গ্রুপ পর্বের সমীকরণ কিছুটা কঠিন করে ফেললেন লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।