কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশইনের চেষ্টার শিকার নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে একাধিক দফা যোগাযোগ ও পতাকা বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তাদের ভাগ্য নির্ধারণে কোনো সমাধান আসে নি। ফলে অনিশ্চয়তা আর উদ্বেগের মধ্যে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান।
তিনি জানান, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে আবারও পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত রবিবার বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা হলেও বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয় নি। ফলে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯ জন এখনও ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার পাশেই অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার সকালে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর থেকেই তারা সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি অবস্থান করছেন।
সীমান্তে অবস্থানরতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করতে হওয়ায় তাদের পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টির সমাধানে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরেই অবস্থান করছেন।