নবীনগরে ফের গোলাগুলি

নারীসহ গুলিবিদ্ধ ২, একজনকে গুমের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে মাদক ও নানা অপরাধ নিয়ে একের পর এক ঘটনা ঘটেই চলেছে। সর্বশেষ রবিবার (১৪ জুন) রাতে উপজেলার বাড়াইল দাসপাড়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গোলাগুলির ঘটনায় এক নারীসহ দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিক আহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে গুলিবিদ্ধদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে গুম করার অভিযোগ উঠেছে।

গুলিবিদ্ধ ওই নারীর বয়স অনুমানিক ৪০ বছর। 

এ ঘটনার পর সোমবার (১৫ জুন) সকালে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদুল আলম চৌধুরী ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রাজীব কান্তি নাথের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ও জেলার গোয়েন্দা পুলিশের দুটো দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমান জানান, এ ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ান করা হয়েছে। 

তবে ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, মাদক, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সম্রাট (পুলিশের তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড) হিসেবে সুপরিচিত মন্নাফ মিয়া ওরফে মনেক ডাকাতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের সলিমগঞ্জ ও বড়িকান্দি দুই ইউনিয়ন। তার বিরুদ্ধে নবীনগরসহ বিভিন্ন থানায় ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে।

এদিকে মনেক ডাকাতের মূল প্রতিপক্ষ ছিলেন এক পুলিশ সুপারের (এসপি) ভাই ওই এলাকারই এমরান মাস্টার। কিছুদিন আগে মনেক বাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে এখন এমরান মাস্টার ঢাকায় চিকিৎসাধীন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী জানায়, এলাকার আধিপত্য নিয়ে গত ১ নভেম্বর এমরান মাস্টারের বাহিনীর সদস্য রিফাতের গুলিতে বড়িকান্দি গণিশাহ বাজারে মনেক ডাকাতের ছেলে একাধিক মামলার আসামি শিপন মিয়াসহ দুজন নিহত হন। ওই ঘটনার জেরসহ এলাকার মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধের নিজেদের নিয়ন্ত্রণ নিতে মনেক ডাকাতের দুই ছেলে সুমন ও নোমানের নেতৃত্বে একটি দল রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়াইল দাসপাড়ায় মাদক বিক্রেতা এমরানের পক্ষের রিফাতের সমর্থক সামিরের বাড়িতে অতর্কিতে গুলি চালিয়ে ঢুকে পড়ে। এসময় গুলির শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানায়, সেসময় রিফাত (২৫) মাদকবিক্রেতা সামিরের ঘরেই অবস্থান করছিলেন। ওই হামলায় এক নারী (৪০) গুলিবিদ্ধ হন বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানায়, তবে ওই গোলাগুলিতে আলোচিত এক ব্যক্তি (২৫) গুলিবিদ্ধ ও নিখোঁজ হওয়ার পর মনেক বাহিনী ওই ব্যক্তির মরদেহ গুম করেছে বলে পুরো এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। যা সোমবার দিনভর ফেসবুকে ওই ব্যক্তির ছবিসহ ঘটনাটি ভাইরাল হয়।

এদিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এত বড় ভয়াবহ একটি গোলাগুলির ঘটনার পর এবং এলাকায় পুলিশ টহলে থাকার পরও মনেক বাহিনী সোমবার দুপুরে গণিশাহ বাজারে এক এনজিওকর্মীর কাছ থেকে প্রকাশ্যে অস্ত্র ঠেকিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এতে করে ওই ভয়ংকর গোলাগুলি ও ২ লাখ টাকা প্রকাশ্যে ছিনতাইয়ের পর পুরো এলাকায় এখন মনেক ডাকাত বাহিনীর ভয়ে ভীতি।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ওবায়দুর রহমানের বলেন, ঘটনা শোনার পর সোমবার সকালেই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের দুটি টিম এলাকায় গিয়ে বিষয়টির তদন্ত করছেন।

তিনি জানান, গোলাগুলির ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে একজন নারী আহতও হয়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। তবে একজন ব্যক্তি ‘গুলিবিদ্ধ ও ‘নিখোঁজ’ হওযার পর তার মরদেহ ‘গুম’ করা হয়েছে, এমন খবরের তথ্য প্রমাণ এখনও পুলিশ খুঁজে পায়নি। তবে এরকম খবর ফেসবুকে আমরাও দেখেছি।

তিনি জানান, সেজন্যই পুলিশ গুরুত্বসহ পুরো বিষয়টি তদন্ত করে, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।